শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুল কেটে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে জুতার মালা

news-image

তরুণীর ওপর বর্বরতা
 

মুখে চুন-কালি মাখিয়ে, মাথার চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে এক তরুণীকে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করল একদল দুর্বৃত্ত। তরুণীটির পেছনে পেছনে চলে উৎসুক জনতা। করা হয় করুচিপূর্ণ মন্তব্য। না, তরুণীটি পাগলও নয়। এটি মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতনের একটি দৃশ্য। নির্যাতিত ওই তরুণী পেশায় পোশাককর্মী। রাজধানী ঢাকার অদূরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বাইপাইল পূর্বপাড়া এলাকায় শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন আশরাফুল (৩০) নামের এক যুবক। কর্মস্থলে আশরাফুলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় অন্য এক নারী পোশাক শ্রমিকের। গত শুক্রবার বিকেলে ওই নারী পোশাক শ্রমিক আশুলিয়ার বুড়িরবাজার এলাকায় বেড়াতে যান। ওই সময় সহকর্মী আশরাফুলের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। একপর্যায়ে আশরাফুল তাঁর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান ওই সহকর্মীকে। তখন আশরাফুলের স্ত্রী পোশাককর্মী আশা বেগম বাড়িতে ছিলেন না। আশরাফুল সহকর্মীকে তাঁর কক্ষে রেখে পাশের দোকানে যান। এর কয়েক মিনিট পরই আশরাফুলের স্ত্রী আশা বেগম বাসায় এসে ওই তরুণীকে (আশরাফুলের সহকর্মী) দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্বামীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের সন্দেহ করে আশা বেগম ওই তরুণীকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আশা ওই বাড়ির মালিক ফিরোজা বেগমের সহযোগিতায় ওই তরুণীর মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং মুখে চুন-কালি লাগিয়ে পুরো এলাকা ঘোরায়। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের কানে এলে তাঁরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। এ খবর পেয়ে আশা বেগম কৌশলে নির্যাতিত ওই তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর বাসায় পাঠিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই তরুণীর কোনো সন্ধান মেলাতে পারছিল না। অবশেষে রাত ১১টার দিকে সাংবাদিকদের তৎপরতায় ওই তরুণীর খোঁজ মিললে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পলাশবাড়ী এলাকার হাবিব ক্লিনিকে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দীপকচন্দ্র সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে পোশাক শ্রমিক আশরাফুল ও তাঁর স্ত্রী আশা বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের বাড়ির মালিক ফিরোজা বেগমসহ তিনজনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাড়ির মালিক ফিরোজা বেগম পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্ত ফিরোজা বেগমের স্বামী মৃত তাইজুদ্দিন। তিনি আশুলিয়ার বাইপাইলে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ দাবি করেছে, ওই নারী মিলেই নির্যাতন করেছে তরুণীকে। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল না।

 

তরুণীকে এভাবে নির্যাতনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাভার শাখার সভাপতি পারভীন ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একজন নারী সহকর্মীকে আশরাফুলের বাসায় নেওয়া উচিত হয়নি। তবে আশরাফুলের স্ত্রী যে ধরনের বর্বরোচিত কাজ করেছে তা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ