,

বৃষ্টি পড়ছে, শুধু তিনি নেই

news-image

'জোছনা আমার অতি প্রিয় বিষয়। প্রতি পূর্ণিমাতেই নুহাশপল্লীতে যাই জোছনা দেখতে, সঙ্গে পুত্র নিষাদ, নিনিত এবং তাদের মমতাময়ী মা। প্রবল জোছনা আমার মধ্যে একধরনের হাহাকার তৈরি করে। সেই হাহাকারের সন্ধান করে জীবন পার করে দিলাম।' এটা হুমায়ুন আহমেদের কথা। জোছনার মতো তিনি বৃষ্টি নিয়ে সৃষ্টি করেছেন উন্মাদনা। বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন উপন্যাস বৃষ্টি বিলাস।এই উপন্যাসের কাহিনীটা এমন- 'বাংলাদেশের আর আট-দশটা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনার্স পড়ুয়া সুন্দরী মেয়ের চেয়ে কোনো অংশে আলাদা ছিল না শামার জীবন। মা, বাবা, ভাই মন্টু, বোন এশাকে নিয়ে সুখেই ছিল সে। একদিন হুট করেই কলেজ থেকে ফিরে সে জানতে পারে বিকালে তাঁকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে। পাত্রপক্ষ এলেন এবং শামাকে পছন্দও করে ফেললেন। পাত্র বলার মতো কিছু না, শামার বাবার অফিসের জুনিয়র অফিসার। শামার বাবা আবদুর রহমান সাহেব চাইলেন শামা বিয়ের আগেই আতাউর মানে যার সাথে শামার বিয়ে হয়েছে তাঁর সাথে ফোনে কথা বলে পরিচয়টা পাকা করে ফেলুক। যেই ভাবা সেই কাজ। শামা নিয়মিত ফোনে আতাউরের সাথে কথা বলতে লাগলো কিন্তু নিজের পরিচয় দিল শামার ছোট বোন এশা হিসেবে। এভাবে কথা বলতে বলতেই একসময় শামা আর আতাউরের সম্পর্কটা নতুন দিকে মোড় নিলো। এরই মধ্যে শামার বান্ধবীর বিয়ে খেতে গিয়ে শামার সাথে পরিচয় হলো আশফাকুর রহমানের, যার টাকাপয়সার কোনো কমতি নেই। শামাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন তিনি। একসময় জানা গেল আতাউর মানসিকভাবে অসুস্থ একজন ব্যক্তি। শামার বিয়ে ভেঙে গেল। শামাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন আশফাক। হৃদয়ের টান নাকি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কোনটা বেছে নেবে শামা? কাহিনীর পাশপাশি তিনি বৃষ্টিকে ফুটিয়ে তুলেছেন সাবলীল বর্ণনায়। বৃষ্টি পাগল এই মানুষটি যখন নর্থ ডকোটা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছিলেন তখন একবার প্রচণ্ড বৃষ্টির শব্দ শুনতে ইচ্ছা করলো। বর্ষাকালের টিনের চালের ঝমঝম বৃষ্টি। দেশে ছোট ভাই জাফর ইকবালকে বললেন বৃষ্টির শব্দ ব্যাঙ ডাকার শব্দ ক্যাসেট প্লেয়ারে রেকর্ড করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে। জাফর ইকবাল ভরা বরষায় গ্রামে গিয়ে টিনের চালের ঝুম বৃষ্টি, মাঠে, ক্ষেতে পানিতে নেমে ব্যাঙের ডাকের শব্দ রেকর্ড করে ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এখনো বর্ষা আসে, টিনের চালে ঝুম বৃষ্টি নামে। গ্রামের মেঠোপথে, ক্ষেতে ব্যাঙ ডেকে যায়। কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ নেই। তিনি চলে গেছেন। যেখানে গেছেন সেখানে নিশ্চই সৃষ্টিকর্তা বৃষ্টির ব্যবস্থা রেখেছেন। মাত্র ৬৪ বছরেই তাকে চলে যেতে হয়েছে। মৃত্যুকে কষ্টদায়ক উল্লেখ করে হুমায়ূন বলেছিলেন, 'মৃত্যুটা আমার কাছে খুবই পেইনফুল। একটা মানুষ এত ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসে, ৭০-৮০ বছর বাঁচে। অথচ একটা কচ্ছপ সাড়ে তিন শ বছর বাঁচে, হোয়াই? কচ্ছপের মতো একটা প্রাণী কেন সাড়ে তিন শ বছর বাঁচবে? আমরা কেন নই?' 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা