,

বাংলাদেশের বিষধর সাপ

news-image

মানুষের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম সাপ। পৃথিবীতে একমাত্র এন্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। জল ও স্থল উভয় স্থানেই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বসবাস করলেও স্থলেই এদের বেশি দেখা যায়। হাত-পা বিহীন এই লম্বা সরীসৃপের প্রতি মানুষের যেন কৌতূহলের শেষ নেই। কোথাও সাপ দেখা গেলে মানুষজন লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে যায় পিটিয়ে মারতে। সাপের সঙ্গে যেন মানুষের চিরকালের শত্রুতা। একবারও চিন্তা করে না সাপটি বিষধর নাকি নির্বিষ। সঠিক জ্ঞানের অভাবে নির্বিচারে সাপ মারা এবং এদের আবাসস্থল নষ্ট করায় অনেক প্রজাতির সাপই আজ বিলুপ্তির পথে। বিষগ্রন্থির উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে সাপ সাধারণত বিষধর ও নির্বিষ হয়ে থাকে। বিষধর সাপের শরীরে বিষ উৎপাদনকারী গ্রন্থি এবং বিষদাঁত থাকে।

আমাদের দেশে কয়েক প্রজাতির বিষধর সাপ দেখা গেলেও নির্বিষ সাপের সংখ্যাই বেশি। বন-জঙ্গলে, গ্রামাঞ্চলে, ফসলের ক্ষেতে কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে যে বিষধর সাপ দেখা যায় তার নাম গোখরা। গোখরার তিনটি প্রজাতি রয়েছে। এরা হল গোখরা, খইয়া গোখরা এবং রাজ গোখরা।
গোখরার দেহের রঙ কালো কিংবা ধূসর এবং পুরো শরীরে হলুদ আড়াআড়ি দাগ রয়েছে। মাথার পেছনে রয়েছে চৌকোনাকার দাগ। খইয়া গোখরার দেহে কোনো আড়াআড়ি দাগ নেই, তবে মাথার পেছনে রয়েছে চশমাকৃতির চিহ্ন। এদের দেহের রঙ কালো কিংবা বাদামি বর্ণের। রাজ গোখরা পৃথিবীর বিষধর সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম।
গোখরার মতোই বিষধর সাপ হল কেউটে। এদেশে তিন প্রজাতির কেউটে দেখা যায়। এরা হল সাদা-বেড় কেউটে, কাল কেউটে এবং শঙ্খিনী। এরা নিশাচর। উজ্জ্বল হলুদ-কালো ডোরাকাটা শঙ্খিনী সাপ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সাধারণত এরা জলাধারের আশপাশে থাকতে বেশি পছন্দ করে। সুন্দরবন, সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে উজ্জ্বল সবুজ রঙের সবুজবোড়া দেখা যায়। এরা বিষধর সাপের তালিকায় অন্যতম। আমাদের দেশে তিন প্রজাতির সবুজবোড়া থাকলেও বেশি দেখা যায় সাদাঠোঁট সবুজবোড়া। ত্রিকোণাকার মাথা এদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। গোলাকার হলুদ চোখ এবং সারা শরীরে উজ্জ্বল সবুজ ও হলুদ রঙের মিশ্রণ থাকায় এরা দেখতে অত্যন্ত চমৎকার।
দেশে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড়ি বনাঞ্চলে লাল-ঘাড় ঢোঁড়া সাপ নামে আরেক প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। এরা দিবাচর। বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, গিরগিটি ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এছাড়া দেশের কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক সাপও দেখা যায়। অধিকাংশ সামুদ্রিক সাপই বিষধর।
সাপ আমাদের প্রতিবেশ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিষধর সাপ ইঁদুর ও ইঁদুর জাতীয় প্রাণী খেয়ে ফসলি জমির যেমন রক্ষা করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্যেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সব সাপ যেমন সব স্থানে পাওয়া যায় না, তেমনি স্থান বিশেষে সাপের উপস্থিতি সেই স্থানের বাস্তুসংস্থানের সুস্থতা নির্দেশ করে।
লেখক : বন্যপ্রাণী গবেষক
 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা