,

ভাঙ্গনের কবলে মেঘনা, হারিয়ে যাবে চরসোনারামপুর গ্রাম!

news-image

আজিজুল আলম সঞ্চয়: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মেনদীর বুক চিরে জন্ম নেওয়া বিচ্ছিন্ন একটি চরের নাম চরসোনারামপুর। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সহ অনেক কিছু থেকেই যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে এই চরের মানুষরা। এখানকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে মনে হবে দারিদ্র্যই যেন তাদের মূল চেহারা। তবে শুধু দারিদ্র্যের মাঝেই তাদের কষ্ট সীমাবদ্ধ নয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই মেঘনার ভাঙ্গনের কারণে এই চরের মানুষগুলোর কষ্টের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ইতিমধ্যে মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চরের একটি বড় অংশ।
জানা যায়, প্রায় দুইশত বছর আগে আশুগঞ্জের মেঘনার নদীর বুকে জেগে উঠে চরসোনারামপুর গ্রাম। আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত চরসোনারামপুর গ্রাম। ঘনবসতিপূর্ণ এ চরের এই গ্রামটিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা এখানকার বাসিন্দারের অধিকাংশই জেলে পেশায় নিয়োজিত। মাছ বিক্রি আর নৌকা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে এখানকার মানুষরা। তবে বর্ষা মৌসুম এসে চরের এই মানুষগুলোর কষ্ট অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। বর্ষা এলেই মেঘনায় ভাঙ্গন শুরু হয়। নদী ভাঙ্গণের এর ফলে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে চরসোনারামপুর গ্রামের বিভিন্ন অংশ। ভাঙ্গনের কারণ হিসেবে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও নদী শাসন না হওয়াকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তবে এখনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর ভাঙ্গন রোধে যদি কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে এই চরের অস্তিত্ব টিকে থাকাই দায় হয়ে যাবে। পাশাপাশি মেঘনার বুক থেকে হারিয়ে যাবে আরো একটি চর।

B.baria Pic_1চরের কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা হলে তারা জানান, গত কয়েকদিন টানা বর্ষণের কারণে নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এর ফলে চরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙ্গনের মাত্রা আরো বেড়ে গেলে চরে বসবাস করা সম্ভব হবে না। তাই তারা চর রক্ষার জন্য দ্রুত একটি বাঁধ ও নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নদী ভাঙ্গনের কারণে হুমকিতে রয়েছে আশুগঞ্জ-শম্ভুপুর গ্রীড লাইন, আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দর ও আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তাই দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে যে কোন সময় চর সোনারামপুর সহ বিলীন হয়ে নিশ্চিহ্ন হতে পারে রাষ্ট্রীয় এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন জানান, চর সোনারামপুর ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা পরিষদকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ  বলেন, কয়েক বছর আগে নদীর চরসোনারামপুর অংশে বালু মহাল থাকলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। তবে ভাঙ্গন রোধে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কতৃপর্ক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।


 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা