বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাস ট্রেন লঞ্চে জনস্রোত ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

news-image

যানজট ও জনজটের নগরী ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষের ভিড় এখন মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে। আজ থেকে ভিড় আরো বাড়বে। সোমবার থেকে ঈদ যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো গাড়ির চাপ দেখা গেছে মহাসড়কগুলোতে। কমলাপুর থেকে ২৮টি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। ভিড় ছিল সদরঘাটেও। ভোর থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে। টার্মিনালগুলোয় যাত্রীদের পৌঁছতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। আবার পৌঁছেও অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় সবাইকে। এর পরও তাদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের রেশ। সকালে কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে। জানালেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে গিয়ে প্রতিবছর ঈদ করেন মা-বাবার সঙ্গে। তিনি স্ত্রী-মেয়েদের আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজে যাবেন। ঈশ্বরদী এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহাবুদ্দিন আহামেদ। ঈদের এক দিন পরই তিনি ঢাকায় ফিরবেন। তাই অফিস থেকে বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে তিন দিন আগেই ঢাকা ছাড়ছেন। কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে নাকি বাস ছেড়ে যাবে। তাই আধাঘণ্টা আগেই পরিবার নিয়ে এসে অপেক্ষা করছেন।

গাবতলীতে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দিনাজপুরের রমজান আলী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, 'এখন পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নেই। ভোগান্তি ছাড়াই এবার বাড়ি যেতে পারব।'

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ইউনিক পরিবহনের কাউন্টারের সামনে কথা হয় হবিগঞ্জের আবদুর রহিমের সঙ্গে। বললেন, 'বৃহস্পতিবার অফিস করব না। মঙ্গলবার সকালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই রওনা দিচ্ছি।' এ রকম ফুরফুরে ভাব দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রীর চোখে-মুখে। সর্বত্রই ছিল স্বস্তির চিত্র। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভিড় ছিল গতকাল বাস টার্মিনালগুলোতে। এনা পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক জয়দেব দাস বলেন, 'ভিড় বেড়েছে মঙ্গলবার থেকে। আমাদের গাড়ি ৩০ মিনিট পরপরই ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে।' তিনটি বাস টার্মিনাল ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, মালিবাগ, ফকিরাপুল, মতিঝিল, কমলাপুর, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ীসহ অসংখ্য ছোট স্টেশন ও কাউন্টার থেকে বাস ছেড়ে যাচ্ছিল প্রতি ঘণ্টায়। ব্যক্তিগত গাড়িতেও অনেকে বাড়ি যাচ্ছে। সোনারগাঁ প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান নূর জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২০ কি.মি. যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘরমুখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী সুমন মিয়া ও নুরুজ্জামান জানান, কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পার হতেই পাঁচ ঘণ্টা লেগেছে। নোয়াখালীর যাত্রী রহমত উল্লাহ ও ইয়াকুব উল্লাহ জানান, তীব্র যানজট ও গরমে নারী ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রতিবারই এ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। চট্টগ্রাম পরিবহনের যাত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও শান্তা ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত পুলিশ মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে এর পরও যানজটে পড়তে হচ্ছে। শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং মহাসড়কের ওপর কাউন্টার সার্ভিস বসিয়ে বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় এসব স্থানে যানজট দেখা দিচ্ছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, 'সওজ রাস্তা বন্ধ রেখে মেরামত করায় ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের প্রচেষ্টায় মহাসড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে দুপুরে।' নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অতিরিক্ত পরিবহনের চাপে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গজারিয়া উপজেলা অংশের প্রায় ষোল কিলোমিটারজুড়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই থেমে থেমে যানজট লেগে ছিল। দুপুরের পর পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ে। মহাসড়কে দায়িত্বরত পুলিশ, ভুক্তভোগী যাত্রী ও চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যানজটে আটকে থাকা যানবাহনের অধিকাংশই মালবাহী ট্রলি, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। গজারিয়া থানার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে গাড়ির অত্যধিক চাপ যানজটের কারণ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর) মাহাবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে জানান, ঈদে ঘরে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে দেশের সব নৌবন্দরের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান সার্বক্ষণিক এসব কার্যক্রম তদারকি করছেন। গতকাল থেকে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস চালু হলেও মূলত আজ থেকে যাত্রীচাপ বাড়বে। নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর পুলিশ : ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা, মহানগর ও শিল্পপুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক গতকাল গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'ঢাকাসহ সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছি। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ঢাকা-মাওয়া এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যেসব পয়েন্টে জ্যাম হওয়ার ঝুঁকি আছে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'
 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা