বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীআ’তের দৃষ্টিতে কনে দেখা ও পাত্র-পাত্রী নির্বাচন

news-image

 মুফতী পিয়ার মাহমুদ : ইসলাম পশ্চিমা নষ্ট সভ্যতার এই নির্লজ্জ ও জঘন্য চিন্তাকে নিষিদ্ধ করেছে কঠোরভাবে এবং বলেছে এটি জঘন্যতম অপরাধ। (বুখারী : ২/১০০৬-১০০৯; মুসলিম : ২/৬৫-৭০; তিরমিযী : ১/২৬৪-২৬৫) পক্ষান্তরে উপমহাদেশীয় কালচার অনেকটা এমন, কনে দেখবে ছেলের অভিভাবকরা। ছেলে কনেকে দেখলে দোষের মনে করা হয়। এই চিন্তাও ভুল। কারণ কনে দেখা সংক্রান্ত হাদীসগুলোতে বরকেই কনে দেখার নির্দেশ হয়েছে। সেখানে অভিভাবকদের সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তাছাড়া বর কনেকে না দেখে শুধু অভিভাবকগণ দেখে বিয়ে সম্পাদন করলে বরের কনেকে পছন্দ নাও হতে পারে। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য জীবনে সৃষ্টি হয় অশান্তি। যার নজির আমাদের সমাজে নেহায়েত কমও নয়। তাই বর নিজে কনেকে দেখে নেয়াটাই অধিক সঙ্গত ও নিরাপদ। পাত্রী নির্বাচনের মাপকাঠি : পাত্রী নির্বাচন ও আত্মীয়তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাপকাঠি কি হবে? মহানবী (সা.) তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। সাহাবী আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ চারটি বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো মেয়েকে বিয়ে করা যায়। ১. তার সম্পদ। ২. বংশ মর্যাদা। ৩. রূপ-লাবণ্য। ৪. তার দীনদারী। তন্মধ্যে দীনদার নারীকে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবনকে সফল ও বরকতময় করে তোল। (তিরমিযী : ১/২০৭) উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দীনদারীর সাথে সাথে কনের রূপ-লাবণ্য, খান্দান, অর্থ-সম্পদ এবং প্রকৃতিগতভাবে ভালোলাগে এমন গুণকেও পাত্রী নির্বাচনের মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা যায়। এই কথার সমর্থন পাওয়া যায় সূরা নিসার এক আয়াতে। আল্লাহ্ তায়া’লা ইরশাদ করেনÑ “যেসব নারী তোমাদের পছন্দ হয় তাদের বিয়ে কর।” (সূরা নিসা : ৩) উক্ত আয়াতের মর্মকথা হলো যে সকল হালাল নারী প্রকৃতিগতভাবে তোমাদের মনঃপুত হয়, তাদের তোমরা বিয়ে করতে পারবে। (মাআরিফুল কুরআন : ২/২৭০) অনুরূপ বিবেচনা পাত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে উত্তম হলো সর্বাবস্থায় বর-কনের দীনদারী ও চারিত্রিক এবং আখলাকী দিকটিকেই মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা। যেমনÑ আমরা জানতে পেরেছি ইতিপূর্বে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসটি দ্বারা। এছাড়াও এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এরশাদ করেনÑ দীনদারী ও চারিত্রিক দিক বিবেচনায় তোমাদের পছন্দ হয়, এমন বিয়ের প্রস্তাব তোমাদের নিকট আসলে তোমরা বিয়ের কার্য সম্পাদন কর। যদি সম্পাদন না কর, তাহলে সমাজে দেখা দিবে বিরাট ফিতনা ও ভয়াবহ বিপর্যয়। (তিরমিযী : ১/২০৭; বাদায়েউস সানায়ে : ২/৩১৭) সমতা : হযরত রাসূলে কারীম (সা.) থেকে বর্ণিত কোনো কোনো হাদীসে বর-কনের মাঝে কুফু তথা সমতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেই হাদীসগুলোকে সামনে রেখে আমাদের ফকীহগণ বর-কনের মাঝে সমতার ক্ষেত্রে ১০টি বিষয় বিবেচনায় রাখতে বলেছেন। যথা- ১. বংশ-খান্দান। ২. স্বাধীনতা ও দাসত্ব। ৩. বংশগত মুসলমান ও নওমুসলিম। ৪. তাক্বওয়া ও দীনদারী। ৫. অর্থনৈতিক অবস্থা ও সম্পদশালিতা। ৬. আভিজাত্য। ৭. পেশা। ৮. শারীরিক সুস্থতা। ৯. আখলাক-চরিত্র। ১০. বিবেক-বুদ্ধি। তবে অকাট্য সত্য হলো দীনদারী ও চারিত্রিক বিষয়টি সবিশেষে লক্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। বংশ-খান্দান ইত্যাদির বিচারে বাড়াবাড়ি করা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের পরিপন্থী। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেনÑ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, যিনি তোমাদের মূর্খযুগের মন্দ স্বভাব ও তার অহংকার থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। মানুষ হয়তো হবে মুমিন-মুত্তাক্বী নতুবা পাপী-দুর্ভাগা। (আবু দাউদ) মহানবী (সা.) ও তাঁরা (সাহাবাদের মহান জামাত) এ ক্ষেত্রে অতি সুন্দর উপমা পেশ করেছেন স্ব স্ব আমল দ্বারা। রাসূলুল্লাহ্ (সা.) স্বীয় চাচাতো বোন যায়নাব (রা.) কে বিয়ে দিয়েছেন স্বীয় গোলাম হযরত যায়েদ ইবনে হারিসার (রা.) সাথে। এভাবে মিকদাদ ইবনে আসওয়াদের সাথে বিয়ে দিয়েছেন হযরত যাবআহ বিনতে যুহাইর ইবনে আ. মুত্তালিবকে। এরপর তিনি বলেছেনÑ “আমি মিকদাদ ও যায়েদের বিয়ে তাদের সাথে এজন্য দিলাম যেন, আল্লাহ্র কাছে মর্যাদার বিচারে তারাই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রের বিচারে উত্তম।” (বায়হাক্বী : ৭/১৩৪-১৩৫) মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আলোকময় জীবনে এ জাতীয় উপমা প্রচুর। তাই বিয়ে-শাদিতে পাত্র-পাত্রী নির্বাচণের মাপকাঠি হওয়া উচিত দীনদারী, তাক্বওয়া ও আখলাক। তবে মানুষের স্বভাবগত বৈচিত্র্যের বিবেচনায় উপরোক্ত অন্য বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখার অনুমতি রয়েছে। 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে