শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ মাস পর মায়ের কোলে ফিরলো বাছির

news-image

অসহনীয় দুর্ভোগ ও দুঃসহ মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগের পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরেছে দালালের মাধ্যমে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমানো হবিগঞ্জের কিশোর বাছির মিয়া (১৭)।

বুধবার (০৮ জুলাই) রাত ১১টায় বাংলাদেশে রেডক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেডক্রিসেন্ট ভবনে স্বজনদের কাছে হতভাগা এই কিশোরকে হস্তান্তর করে।
 মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগ শেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা কিশোর বাছির হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বোল্লা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের খেলু মিয়ার ছেলে।
 হতভাগা যুবক বাছির মিয়া জানায়, গত ১৫ মার্চ তাদের গ্রামের দালাল আদম আলীর খপ্পড়ে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে যাত্রা করে সে। পথে দুই মাস অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সয়ে ও নরক যন্ত্রণা ভোগ করে সাগরে ভেসে থাকে তারা। পরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে আরো দুই মাস বন্দিশিবিরে আটকে থাকে সে। ‍বয়স অনুর্ধ্ব ১৮ হওয়ায় মালয়েশিয়ান রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
 বাংলাদেশে পৌঁছার পর বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ তাকে স্বজনদের ঠিকানা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সেখানে তার মামা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. আক্তারুজ্জামানের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
 এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান আল-মামুন সরকার, ইউনিট লেভেল অফিসার আব্দুল মান্নান ও ইউনিট যুব প্রধান সালাউদ্দিন ভূঁইয়া।
 বাছিরকে ফেরত পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মামা আক্তারুজ্জামান বলেন, দালালদের খপ্পড়ে পড়ে এমন করুণ পরিণতি যাতে কারো ভাগ্যে না ঘটে। সরকারের উচিত এসব পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান আল-মামুন সরকার বলেন, বয়স অল্প হওয়ায় এই ছেলেটিকে মালয়েশিয়া রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।