বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে সাব-রেজিষ্টারের ব্যাপক অনিয়ম

news-image

ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সাব-রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টাকা ছাড়া অফিসের কোন কাগজ নড়ে না। টাকা পেলেই ক্ষান্ত হন সাব রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। কেউ অভিযোগ করলে তাকে নানা ভাবে হয়রানি করেন। সরকারী কর্মকর্তা হয়েও তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সংগে রয়েছে গভীর সখ্যতা। নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক প্রতিমন্ত্রীর লোক বলে দাবী করেন। নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সপ্তাহের অন্যান্য দিন জেলা শহর ও ঢাকায় অবস্থান করেন। সম্প্রতি তিনি জেলার কসবায় সাব রেজিষ্ট্রারে থাকাকালীন স্থানীয় এমপির সাথে চরম মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তার বিরুদ্ধে ডিও লেটার দিয়ে জেলা থেকে বদলী করেন। এর কিছু দিনপরই পুনরায় আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। সেখানে এসেই স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে মত বিরোধ দেখা দেয়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এর কিছুদিন পর আসেন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। সেখানে তার অনিয়মের মাত্রা বেড়ে গেলে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন তাকে অফিসে ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি না আসলে তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে নাসিরনগর সাব রেজিষ্টার অফিসে কর্মরত রয়েছে। তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। সপ্তাহে রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার অফিস করেন। অন্যান্য দিন ঢাকায় অবস্থান করেন। নিয়মিত অফিসে না থাকায় উপজেলার প্রত্যন্তে মানুষ দলিল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি টাকা ছাড়া কোন দলিলে সই করেন না। টাকা পেলে যে কোন অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেন। তার বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রতি সাফকবলা দলিলে গ্রহীতাকে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। খাজনার চেক ছাড়া দলিল করলে দিতে হয় বিপুল পরিমান টাকা। নামজারীবিহীন, ভোটার আইডি কার্ড অথবা জš§ নিবন্ধন সার্টিফিকেট না থাকলেও দিতে হয় মাসোয়ারা। হেবা বিষয়ক ঘোষণাপত্র দলিলে সরকারি ফি উপেক্ষা করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাজ করেন। ৫শ’ টাকার কমিশন দলিল হয় ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দলিলে মূল্যের উপর ৫% হারে বখরা নেন। এছাড়াও খাস খতিয়ানের জমিতেও বিরাট অংকের রফাদফায় দলিল রেজিষ্ট্রি করেন তিনি। ঘুষের মোটা অংশ নিজের পকেটে রেখে বাকী টাকা অফিসের কর্মরত অন্যদের মাঝে বিতরণ করে দেন। নাসিরনগর উপজেলা সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ অনিয়মের কথা অস্বীকারে করে বলেন, সপ্তাহে প্রতিদিন অফিস আসব কি আসব না এটা আমার নিজস্ব ব্যাপার। কোন অভিযোগ থাকলে নিউজ করে দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেজিষ্টার ভবতুষ ভৌমিক জানান, আমি হেড অফিসে আছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে