বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আটক হয় এশিয়ার সর্ববৃহৎ কোকেনের চালান।

news-image

১৫ জনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জাহাজের এদেশীয় এজেন্ট এইচআরসি গ্রুপ কোকেনের চালানটি ভারত হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল – See  

 

 এটি ভারত হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল। পাচারে জড়িত রয়েছে আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়া ব্যবসায়ীরা। ভারত, যুক্তরাজ্য, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, ইউরোপ ও বাংলাদেশসহ জড়িত ৬ দেশের ১৫ জন সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বাবুল, ফজলু এবং ভারতের রাজুসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীর একটি শক্তিশালী মাফিয়া চক্র এর সাথে জড়িত। গ্রেফতারকৃত ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক পরীক্ষায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কেন কোকেন-এর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারেননি এ নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,বাংলাদেশে বলিভিয়া থেকে ভোজ্যতেলের ড্রামে করে কোকেনের একটি চালান গেছে ৮ মে। চালানটি ১৩ মার্চ উরুগুয়ে থেকে শিপমেন্ট হয়েছে। ব্রিটিশ এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) চিফ (অতিরিক্ত) আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারিকে এমন খবর জানানোর পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রধান ড. মঈনুল খানকে অনুরোধ করেন। ড. মঈনুল খোঁজ নিয়ে দেখেন নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে ভোজ্যতেলের কোন চালান আসেনি। কাগজপত্র ঘেঁটে এই সংক্রান্ত কোন রেকর্ড পাননি তিনি। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলীর মালিককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের সোহেল নামের এক কর্মচারী তাকে ভোজ্যতেল আমদানির কথা বলেছিল। পরে সোহেলকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোকেনের কথা স্বীকার করেন। এসবি প্রধান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। সেই নির্দেশনা মেনেই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তরল কোকেনের এত বড় চালান ধরা পড়ল। এই চালানটি কেবল বাংলাদেশেই নয়, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় ধরা পড়া কোকেনের চালান। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এক কেজি কোকেনের দাম অন্তত ৩৫ কোটি টাকা। জব্দকৃত ১০৭টি ড্রামে অন্তত ৬০ কেজি কোকেন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে জব্দকৃত কোকেনের মূল্য হবে অন্তত ২১০০ কোটি টাকা। গত ৮ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে থাকা সন্দেহজনক কনটেইনারটি আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পরদিন গোয়েন্দা পুলিশ, শুল্ক গোয়েন্দা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, নৌবাহিনী, কাস্টমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কনটেইনারে থাকা ভোজ্যতেলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এসময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা কিটের মাধ্যমে প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। এতে ১০৭টি ড্রামে কোকেনের নমুনা ধরা পড়েনি। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দাদের সন্দেহ দূর হয়নি। ফলে তা আরও আধুনিক ল্যাবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১০ জুন চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ পুলিশী নিরাপত্তায় ট্রেনে সব ব্যারেল থেকে তেলের নুমনা ঢাকায় দুটি পৃথক ল্যাবে পাঠানো হয়।অধিকতর পরীক্ষায় ঢাকার বিসিএসআইআর (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) ও ড্রাগ টেস্টিং ল্যাব দুটিতেই কোকেন ধরা পড়ে।শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, বন্দর কর্তৃপক্ষ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা এ চালানের নথিপত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। কিন্তু নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, এ চালান আমদানির জন্য ব্যাংকে কোনো ঋণপত্র খোলা হয়নি। আবার বলিভিয়া থেকে ভোজ্যতেলের কোন চালান এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসও হয়নি।ব্রিটিশ গোয়েন্দা এসবি প্রধানকে বলেছিলেন নির্দিষ্ট ড্রামটির লেবেল একটু আলাদা হবে। মুখ খুললে আলাদা একটা গন্ধও পাওয়া যাবে। এছাড়াও ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ১০৭টি ড্রামের মধ্যে ১১টিতে কোকেন আছে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। এ কারণে সন্দেহজনক কনটেইনারটি খোলার পর বিশেষ রঙের স্টিকার থাকা ১১টি ড্রামকে প্রথমে আলাদা করে ফেলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সাধারণ কোকেন পাউডারের মত হলেও আটক কোকেন ছিল তরল। নমুনা পরীক্ষা করে যাতে কোকেনের অস্তিত্ব ধরা না পড়ে, সে জন্য এটি ভোজ্যতেলের সঙ্গে পাঠানো হয়। এ কারণে নৌবাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক পরীক্ষায় কোকেনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে সন্দেহ থেকে যাওয়ায় প্রতিটি ড্রাম থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকার ল্যাবে পরীক্ষা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আর এ পরীক্ষাতেই ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটিতে কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে ১০৭টি ড্রামের মধ্যে ৯৬ নম্বর ড্রামের নমুনাতেই মেলে তরল কোকেন। ১৮৫ কেজি ভোজ্যতেলের সঙ্গেই মেশানো আছে এ কোকেন।শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মইনুল খান গতকাল ইনকিলাবকে বলেন তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত এ ব্যাপারে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, কোকেনের এ চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলকাতা বন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবুল, ফজলু এবং ভারতের রাজু নামের এক কোকেন ব্যবসায়ী তৎপর ছিল। মইনুল খান আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশ ভারতের ব্যবসায়ীরাই নয় বলিভিয়া, উরুগুয়ে, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশেও এদের এজেন্ট রয়েছে। তবে রাজু, বাবুল ও ফজলুকে গ্রেফতার করতে পারলে সকল রহস্য দ্রুত বেরিয়ে আসবে। ড. মঈনুল খান আরো বলেন, এ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র ও তথ্য প্রমাণাদি আমাদের হাতে এসেছে। খুব শীঘ্রই রহস্য উদঘাটন করা হবে। তদন্ত কমিটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তা বলা যাবে না। তিনি বলেন, আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান মন্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল এবং আতিকুর রহমানের কাছ থেকে যে সব তথ্য পাওয়া গেছে তা যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বলিভিয়া থেকে আসা কোকেনের এ চালানটি কলকাতা হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের। তবে বাংলাদেশী যারা জড়িত রয়েছে তারা মূলত টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করছিলেন। মূলহোতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী বকুল, ফজলু এবং ভারতের রাজু। ভারতীয় নাগরিক বলিভিয়া প্রবাসী রাজুর এক বন্ধু চালনটি সেখান থেকে পাঠায়। এদের সাথে আরো ১০ জনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ চালানের সাথে শিপিং লাইন এজেন্ট, জাহাজের এজেন্ট কোম্পানি, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের এদেশের সদস্যসহ বিদেশী মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে নতুন করে আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতারকৃতরা হলো, গোলাম মোস্তফা সোহেল, মন্ডল গ্রুপের আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল এবং আতিকুর রহমান। তাদের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এছাড়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বকুল মিয়া, তার মামাত ভাই ঢাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল, তার ভাতিজা আতিকুর রহমান এবং চট্টগ্রামের খানজাহান আলী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল এ ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কোকেনের চালানটি বলিভিয়া থেকে উরুগুয়ের মাল্টিভিডিও বন্দরে যায়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে জাহাজে। কসকো শিপিং লাইন কোম্পানির কন্টেইনারে যে জাহাজে করে আনা হয় সেই জাহাজের এদেশীয় এজেন্ট হলো এইচআরসি গ্রুপ।এদিকে পুরো বিষয়টি এনবিআর মনিটরিং করছে। ২টি তদন্ত কমিটি ও গোয়েন্দা পুলিশ, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ এ বিষয়ে কাজ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, আমরা তৎপর ছিলাম বলেই এতবড় চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ এ বিষয়ে সমন্বয় সাধন করে কাজ করছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নিয়ে খুবই সতর্কতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে। সকল রহস্য খুব শীঘ্রই বেরিয়ে আসবে।সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, লন্ডন প্রবাসী বকুল ওরফে ফজলু চালানটি খালাসের পাঁয়তারা চালায়। তাদের এক ভারতীয় বন্ধু বলিভিয়াতে থাকেন। মূলতঃ এ চালানটি বকুল ও তাঁর বন্ধুর। বাংলাদেশে পাউডার জাতীয় কাকেন পরীক্ষা করা যায়, তরল কোকেন পরীক্ষায় জটিলতা আছে বলে ওই তরল কোকেনের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষায় কোকেন কেন ধরা পড়েনি এ প্রশ্ন তুলেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গত ৮ জুন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, ‘কোকেন শনাক্ত হয়নি। এই নমুনাতে কোকেন ধরা পড়েনি’। পরবর্তীতে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ নমুনা সংগ্রহ করে ২টি ল্যাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোকেন হিসাবে শনাক্ত করে।মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ বজলুর রহমান বলেন, কিটবক্সের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য রাসায়নিক টিম চট্টগ্রামে পাঠানো টিমের প্রধান ছিলেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক কর্মকর্তা দুলাল কৃষ্ণসাহা। কেন কোকেন ধরা পড়েনি তা এখন বলতে পারছি না। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটিই ভাল বলতে পারবে।   

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে