বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ : এবার সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের পালা

SHAKA- mujahidএকাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করা হয়েছে। এবার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরী) ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পালা। দুটি মামলায় সাকা ও মুজাহিদকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুটি মামলাই বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই মানবতাবিরোধী অপরাধীর দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলাটি সর্বশেষ গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের কার্যকালিকায় আসে। ওই দিনের কার্যতালিকায় সাকা চৌধুরীর মামলাটি ১০ নম্বরে ও মুজাহিদের মামলাটি ৯ নম্বরে রাখা হয়। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে মামলা দুটি পরিচালিত হচ্ছে। বেঞ্চের অন্য সদস্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। দুই মামলাতেই প্রধান আইনজীবী হিসাবে আসামীপক্ষে রয়েছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। এবং রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। কার্যতালিকায় মামলা প্রকাশের পর আসামীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ৬ সপ্তাহের সময় আবেদন করা হয়। এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। এর আগেও শুনানীর জন্য মামলা দুটি কার্যতালিকায় আসে।

এর আগে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন। মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রপক্ষের সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ওই বছরের ১১ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন মুজাহিদের আইনজীবীরা।

সাকা চৌধুরী
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২০১৩ সালে ১ অক্টোবর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় ঘোষণা করে। সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করে। এরমধ্যে ৪টি অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নের্তৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চট্টগ্রামে গণহত্যায় অংশ নেয়া ছাড়াও হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, হিন্দু বাড়ি দখল, হিন্দুদের দেশান্তরে বাধ্য করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। সাকা চৌধুরীই হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে হত্যা, গণহত্যার দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড। ২, ৪ ও ৭ নম্বর অভিযোগে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরে বাধ্য করার মতো অপরাধের জড়িত থাকা এবং এর পরিকল্পনা করার দায়ে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রমানিত যে ৪টি অভিযোগে হত্যা ও গণহত্যায় ফাঁসি হয়েছে তা হলো, ৩ নং অভিযোগে গহিরা শ্রী কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নতুন চন্দ্র সিংহ হত্য, ৫ নং অভিযোগে সুলতানপুরে শ্রী নেপাল চন্দ্র ও তিনজনতে হত্যা, ৬নং অভিযোগে ঊনসত্তর পাড়ায় ৬৯/৭০জনকে গণহত্যা এবং ৮নং অভিযোগে চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহমদ ও তার পুত্র আলমগীরকে হত্যার দায়ে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে।

আর প্রমাণিত অপহরণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগে আনা হয়েছে, ১৭ নং অভিযোগে নিজাম উদ্দিন আহম্মেদকে অপহরণ ও নির্যাতন, ১৮ নং অভিযোগে সালেহ উদ্দিন আহমেদকে অপহরণ ও নির্যাতন। আর এই দুই অভিযোগে সাকাকে দেয়া হয়েছে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। অন্যদিকে ২, ৪ ও ৭ নং অভিযোগে তাকে দেয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদন্ড। আর যে সকল অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ১, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২৩ নং অভিযোগ। এছাড়াও যে অভিযোগ গুলো নিয়ে আদালত কিছু বলেনি সেগুলো হলো- ৯, ১৩, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ নং অভিযোগ। ২০১২ সালের ১৪ আগষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল-১।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মুজাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, নিযার্তনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি ঘটনায় মুজাহিদের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তাই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া না হলে ন্যায়বিচার হবে না বলে রায়ে উল্লেখ কার হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটির অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামী মুজাহিদকে এ দুই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। প্রমাণিত ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, ১ ও ৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত সাত অভিযেগের মধ্যে প্রমাণিত পাঁচটি অভিযোগ
মুজাহিদের বিরুদ্ধে ১ নম্বর অভিযোগকে ৬ নম্বর অভিযোগের সঙ্গে সমন্বিত করে দু’টি অভিযোগের একসঙ্গে রায় দেওয়া হয়েছে। ১ নম্বর অভিযোগে ছিল, শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন হত্যা ও ৬ নম্বর অভিযোগে ছিল সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতে থাকা নেতা হিসেবে গণহত্যা সংঘটিত করা, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা, হত্যা, নির্যাতন, বিতাড়ন ইত্যাদির ঘটনা। প্রথম অভিযোগে শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন হত্যার ঘটনায়ও তার সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায় ছিল বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। ৭ নম্বর অভিযোগে ছিল, ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার বকচর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ও গণহত্যার ঘটনা। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এসব অভিযোগ প্রসিকিউশন সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৫ জুন আসামীপক্ষ এবং প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটির রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা