বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ কাঁপানো মিথ!

DL law in durban 2003_1ক্রীড়া ডেস্ক : সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে উঠছেন গ্রাহাম স্মিথ। ক্লান্ত পা গুলো যেন চলছেই না; দু’চোখে রাজ্যের বিস্ময়। মুখে কিছু না বলার আগেই অভিব্যক্তিটা বুঝে ফেলা যায় – ‘আর কত?’
বলা হচ্ছে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটা দৃশ্যপট। বছর চারেক আগের কথা। আরেকটি বিশ্বকাপের ফেবারিট হয়ে আসো দক্ষিণ আফ্রিকানদের বিদায় ঘটলো কোয়ার্টার ফাইনালে। তাও আবার ক’দিন আগেই একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। মাত্র ২২২ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ১৭২ রানেই ধসে পড়লো হাসিম আমলা, স্মিথ, জ্যাক ক্যালিস, জেপি ডুমিনিদের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ।
২৫ মার্চের রাতের সেই সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশাটা সত্যিই যেন বোঝা হয়ে উঠছিল দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের জন্য। স্বদেশী এক সাংবাদিক কোন রাখঢাক না রেখেই প্রশ্ন করে বসলেন, ‘প্রশ্নটা আগেও অনেকবার করা হয়েছে। আবারও করছি, এখন কি অন্তত আপনারা মানছেন যে ‘চোকার’ কথাটা সত্যিই আপনাদের নামের সাথে যায়?’
এরপরই অবাক হওয়ার পালা। সেই ১৯৯২ সাল থেকে অনেকবার যারা চোকার শব্দটা শুনলেই ক্ষেপে উঠতেন সেই দলের কোচ কোন উচ্চবাচ্যই করলেন না। শান্ত-ক্লান্ত কণ্ঠস্বর দিয়ে বলে দিলেন, ‘হ্যা, হয়তো এক সময় আমরা নিজেরাও এটা মানতে চাইতাম। তবে, এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। সত্যিই হয়তো আমরা চোকার।’
চোকার কথাটা আক্ষরিক অথেই ঢুঁকে গেছে ক্রিকেট অভিধানে। একধাপ এগিয়ে হয়তো বলা যায়, বহুল ব্যবহারের ফলে ক্লিশে হয়ে গেছে শব্দটা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য শব্দটা যন্ত্রনার, আক্ষেপের। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সোনার ভাদুরিয়া কিংবা রয়টার্সের মার্ক মিডোসের ভাষায়, ‘চোক এমন একটা শব্দ যেটা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের রাতের ঘুম হারাম করে রেখেছে প্রায় তিন যুগ!’
কোনটা রেখে কোনটাকে এগিয়ে রাখবো? ৯২’ এর সেমিফা্ইনাল? ফাইনালে ওঠার জন্য তখন দু’দশক পর ক্রিকেটে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকানদের দরকার ১৩ বলে ২২ রান। হঠাৎ বৃষ্টি! ভুতূরে বৃষ্টি আইনে পরে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১ বলে ২১! কাচের গ্লাস ঘেরা ড্রেসিং রুমে দাঁড়িয়ে থাকা প্রোটিয়াদের ছলছল চোখ, আর বিজয়ী ইংলিশদের উল্লাস – ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজিক দৃশ্য হয়ে আছে এটা।
চোকার
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে এসে তাদের ছিটকে দিয়েছিলেন ব্রায়ান লারা। তবে, সবচেয়ে বড় ‘কাণ্ড’ ঘটলো ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে। আবারও সেই সেমিফাইনাল। শেষ বলে দরকার এক রান, অ্যালান ডোনাল্ডের দ্বিগবিদিকশুণ্য দৌড়, নায়ক থেকে ল্যান্স ক্লুজনারের ‘ট্রাজিক নায়ক’ হয়ে ওঠা – নিশ্চিত ভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকানরা ভুলে যেতে চাইবেন এই স্মৃতি।
আর সর্বশেষ ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে অভিজ্ঞতার কথাটা তো শুরুতেই বললাম। সেদিনের গ্রাহাম স্মিথ বিদায় নিয়েছেন ক্রিকেট থেকে। দলপতির দায়িত্বে এবার এবিডি ভিলিয়ার্স। এবার বিশ্বকাপ কাঁপানো মিথটা ভাঙা যাবে তো?

উত্তরটা সময়ই বলে দেবে। আর এক সপ্তাহ পরেই যে শুরু বিশ্বকাপ!

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা