,

কুরিয়ারে আটকে আছে ৭০ শতাংশ মালামাল

courier-service-Dhaka-express-company-400x254ডেস্ক রির্পোট : টানা একমাসের হরতাল-অবরোধে ভেঙ্গে পড়েছে সারাদেশে কুরিয়ার সার্ভিস সেবা। ফলে কুরিয়ার সেন্টারগুলোতে আটকা পড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ জরুরি নথিপত্র, পার্সেল ও মালামাল। পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক জিনিসপত্র। জরুরি ঔষুধ ও বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ লেটার পর্যন্ত পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে মালিকদের। পার্সেল বহনকারী কাভার্ড ভ্যানগুলো ভাংচুর ও আগুনে পুড়ার শিকার হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি পাঠাতেও নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। ক্রমাগত ক্ষতির মুখে বেতন-ভাতাও পাচ্ছে না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ তানভির আহমেদ রনি এই প্রতিবেদককে বলেন, গোডাউন গুলোতে মালের স্তুপ হয়ে আছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মালামাল আমাদের আটকে আছে। মাল রাখার জায়গা নেই তাই মাল বুকিংও নেয়া হচ্ছে না। টানা একমাসের হরতাল-অবরোধে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ব্যবসা। চলতি মাসেও এভাবে থাকলে আগামী মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও দেয়া সম্ভব হবে না। এই পর্যন্ত আমাদের প্রায় ১২ থেকে ১৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। চাঁদপুর ও নোয়খালীতে দুটি গাড়ি পুড়েছে। ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ভাংচুর করেছে। গাড়ির কোন ক্ষয়ক্ষতিও পাওয়া যায়নি। উত্তরবঙ্গে কোন গাড়ি পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর মাদারিপুর, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও খুলনা জেলায় কিছু গাড়ি পাঠানো হচ্ছে। শেখ তানভির বলেন, আমাদের সারাদেশে ৪৫৭টি কুরিয়ার সেন্টার রয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এছাড়া এজেন্ট রয়েছে প্রায় ১ হাজার জন।

কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সর্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইমরান চিশতি বলেন, হাজার হাজার বাক্স মাল পড়ে আছে গোডাউনে। গাড়ি পাঠালেই ভাংচুর হয়। এ জন্য ঝুঁকি নিয়ে মালামাল পাঠানো হচ্ছে না। সাধারণত কুরিয়ার সার্ভিসে করে মানুষ তাদের অতি প্রয়োজনীয় মাল প্রেরণ করেন। এসব মালামাল সময়মতো না পৌঁছালে গ্রাহক বিপদে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তরা বলেন, আমরা বিভিন্ন পার্সেলসহ দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল থেকে মাছ ও নানারকম কাঁচামাল পরিবহন করি। কিন্তু হরতাল-অবরোধে সব থমকে আছে। গ্রাহকদের পাঠানো এসব মূল্যবান দ্রব্যাদি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ৩টি গাড়ি আগুনে পুড়েছে। প্রায় ৩০টি গাড়ি ভাংচুর করেছে। যার আর্থিক ক্ষতি কোটি কোটি টাকা। আমাদের ১ হাজার ২০০ জন নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৮০০ জন এজেন্ট রয়েছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গত মাসের বেতন দেয়া হয়নি। গ্রাহকদের সঙ্গে যে কমিটমেন্ট করেছি তাও রক্ষা করতে পারছি না।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হরতাল-অবরোধের কারণে সময়মতো চিঠিপত্র ও পার্শ্বেল পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকার বাইরের চিঠিপত্রও আসছে না। ফলে দেশের অভ্যন্তরের ডাক যেমন পৌঁছানো যাচ্ছে না, তেমনি দেশের বাইরের চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা যাচ্ছে না। এতে বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

কুরিয়ার সার্ভিস সেন্টার গুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, মালামাল স্তুপাকারে পড়ে আছে। অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন গ্রাহকরা তাদের মালামাল গ্রহণ করতে ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু সময়মতো মাল না আসায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা