,

ফতোয়ার শিকার নাজমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা : বাড়ি ছেড়ে শহরে আশ্রয়

B Baria Mapনিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রামে ফতোয়ার শিকার নাজমা বেগমের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত প্রায় ১০ টায় দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একটি ঘর পুড়ে গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন আয়ত্বে আনে। এদিকে ফতোয়ার শিকার নাজমা তার পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে শহরে চলে এসেছেন। তার স্বামীকে সন্ত্রাসীরা মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের নিয়োগ দেয়া মসজিদের ইমামকে বিদায় করে দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দায়েরা করা সন্ত্রাসী মামলা শেষ না করায় তাকে নানা হুমকী প্রদান করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহরে গ্রামের নাজমা বেগম (৪৫) কিশোরী থাকা অবস্থায় আশির দশকের প্রথম ভাগে বিয়ে হয় সদর উপজেলার নরসিংসা গ্রামের আব্দুল করিমের সাথে। বিয়ের পরে ভালোই চলছিল সংসার। কিশোরী নাজমার একে একে দুটি পুত্র হয়। এরপর থেকে নানা কারনে তার উপর চলতে থাকে অমানসিক নির্যাতন। এ অবস্থায় স্বামীর বাড়িতে টিকতে না পেরে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় নাজমা। ৮৮ সালে ১৯জুন স্বামী তাকে বাইন তালাক দেয় সবকিছু মেনে নিয়ে সেখানেই চলতে থাকে। এরই মাঝে ছেলে দুটি বড় হয়। এক পর্য়ায়ে বিদেশ যাবার জন্য উদ্যোগ নেয়। এ সুযোগে স্বামী আব্দুল করিম নাজমাকে নিয়ে আবার সংসার করার ফন্দি আঁটে। নাজমা রাজি না থাকলেও সমাজ সংসারের চিন্তা করে রাজি হয়। এরপর ২০০১ সালে ছেলেদের চাপে পিতা আব্দুল করিম নরসিংদীর এক মাওলানার মাধ্যমে নতুন করে বিয়ে পরিয়ে ঘর-সংসার শুরু করেন। এরপর কেটে যায় একযুগ। স্থানীয় একটি মহল তাদের একযুগের ঘর-সংসারকে অবৈধ আখ্যা দেয়। গত বছল গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে তাকে একঘরে করে রাখা হয় স্থানীয় ফতোয়াবাজরা ঘোষনা দেয় তাদের বিয়ে বৈধ নয়। ১৪ বছর অবৈধ সংসার করার জন্য তিরস্কার বরা হয়। কাফফারা (জরিমানা) হিসেবে স্বামী-স্ত্রীকে ১০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। তবে স্ত্রীকে জরিমানা করা হয় একলাখ টাকা এবং তাকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়। সালিশের রায় উপেক্ষা করলে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতাপেটার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় একের পর এক অত্যাচার। নাজমার পুত্র শ্যামল জানান, জীবন বাঁচাতে মাকে নিয়ে শহরে আশ্রয় নিয়েছি। বাড়ি থাকা সত্ত্বেও সেখানে থাকতে পরছি না। এখন ভাড়া থাকতে হবে। বাবাকে সন্ত্রাসীরা মার ধর করে। গ্রাম্য সর্দার মাতব্বররা চাচ্ছে মামলা তুলে নিতে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফরিদ মিয়া বলেন, তার একটি ঘর রাতে পুড়ে গেছে। সদর এএসপি সার্কেল তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। ব্যবস্থ্ ানেয়া হবে।


 

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা