বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতোয়ার শিকার নাজমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা : বাড়ি ছেড়ে শহরে আশ্রয়

B Baria Mapনিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রামে ফতোয়ার শিকার নাজমা বেগমের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত প্রায় ১০ টায় দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একটি ঘর পুড়ে গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন আয়ত্বে আনে। এদিকে ফতোয়ার শিকার নাজমা তার পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে শহরে চলে এসেছেন। তার স্বামীকে সন্ত্রাসীরা মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের নিয়োগ দেয়া মসজিদের ইমামকে বিদায় করে দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দায়েরা করা সন্ত্রাসী মামলা শেষ না করায় তাকে নানা হুমকী প্রদান করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহরে গ্রামের নাজমা বেগম (৪৫) কিশোরী থাকা অবস্থায় আশির দশকের প্রথম ভাগে বিয়ে হয় সদর উপজেলার নরসিংসা গ্রামের আব্দুল করিমের সাথে। বিয়ের পরে ভালোই চলছিল সংসার। কিশোরী নাজমার একে একে দুটি পুত্র হয়। এরপর থেকে নানা কারনে তার উপর চলতে থাকে অমানসিক নির্যাতন। এ অবস্থায় স্বামীর বাড়িতে টিকতে না পেরে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় নাজমা। ৮৮ সালে ১৯জুন স্বামী তাকে বাইন তালাক দেয় সবকিছু মেনে নিয়ে সেখানেই চলতে থাকে। এরই মাঝে ছেলে দুটি বড় হয়। এক পর্য়ায়ে বিদেশ যাবার জন্য উদ্যোগ নেয়। এ সুযোগে স্বামী আব্দুল করিম নাজমাকে নিয়ে আবার সংসার করার ফন্দি আঁটে। নাজমা রাজি না থাকলেও সমাজ সংসারের চিন্তা করে রাজি হয়। এরপর ২০০১ সালে ছেলেদের চাপে পিতা আব্দুল করিম নরসিংদীর এক মাওলানার মাধ্যমে নতুন করে বিয়ে পরিয়ে ঘর-সংসার শুরু করেন। এরপর কেটে যায় একযুগ। স্থানীয় একটি মহল তাদের একযুগের ঘর-সংসারকে অবৈধ আখ্যা দেয়। গত বছল গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে তাকে একঘরে করে রাখা হয় স্থানীয় ফতোয়াবাজরা ঘোষনা দেয় তাদের বিয়ে বৈধ নয়। ১৪ বছর অবৈধ সংসার করার জন্য তিরস্কার বরা হয়। কাফফারা (জরিমানা) হিসেবে স্বামী-স্ত্রীকে ১০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। তবে স্ত্রীকে জরিমানা করা হয় একলাখ টাকা এবং তাকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়। সালিশের রায় উপেক্ষা করলে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতাপেটার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় একের পর এক অত্যাচার। নাজমার পুত্র শ্যামল জানান, জীবন বাঁচাতে মাকে নিয়ে শহরে আশ্রয় নিয়েছি। বাড়ি থাকা সত্ত্বেও সেখানে থাকতে পরছি না। এখন ভাড়া থাকতে হবে। বাবাকে সন্ত্রাসীরা মার ধর করে। গ্রাম্য সর্দার মাতব্বররা চাচ্ছে মামলা তুলে নিতে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফরিদ মিয়া বলেন, তার একটি ঘর রাতে পুড়ে গেছে। সদর এএসপি সার্কেল তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। ব্যবস্থ্ ানেয়া হবে।


 

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে