,

মেঘনা নদীতে আবারও ভাসছে লাশ দায় নিতে চায়না পুলিশ!

picআমিরজাদা চৌধুরী : আবারো মেঘনায় নদীতে ভাসছে লাশ। ভাসা লাশ উদ্ধার নিয়ে চলে পুলিশের নানা কৌশল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর ফেরিঘাটের পার্শে¦ চর সোনারামপুর এলাকায় অজ্ঞাত পুরুষের (৪০) লাশ উদ্ধার নিয়ে পলিশের ঠেলাঠেলি চলে সারাদিন। দিনভর ঠেলাঠেলি শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় আশুগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্বার করে লাশটি। পুলিশ জানিয়েছে লাশটির শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তের দাগ দেখা গেছে। নিহতের শরীরে শীতের কাপড় ও সাদা লুঙ্গী ছিল। অজ্ঞাত হিসাবে তার দাফন হয়েছে।
জানা যায়  মেঘনা নদীতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতুর পার্শ্বের এলাকায় প্রায়ই আশুগঞ্জের মেঘনা নদীতে ভেসে উঠেছে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ। আর উদ্ধার হওয়া লাশের কোনটির পরিচয় আজও পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ লাশ পঁচে ভেসে উঠার কারণে বয়সও নির্ণয় করা যায়নি। লাশ ময়না তদন্ত পর বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে পুলিশ লাশের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সেতুর কাছে মেঘনা নদীতে কিছুদিন পর পর ভেসে উঠা লাশ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা দেশের বিভিন্ন স্থানে গুম ও খুন হওয়া মানুষের মৃতদেহ মাইক্রোবাসে করে এনে সেতুর উপর থেকে নদীতে ফেলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। সেতু এলাকায় মাছ ধরার জেলেরা আছেন নিরব সাক্ষী হয়ে। আশুগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক থেকে ভৈরব, আশুগঞ্জ ও রায়পুরা উপজেলার জলসীমার সংযোগস্থল এক কিলোমিটার মধ্যে। ওই স্থানে দিন রাত মাছ শিকার করেন বেশ কয়েকজন জেলে। সেতু থেকে ফেলা বস্তু নিয়ে অনেক প্রশ্ন তাদের মধ্যেও। নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে এক জেলে আঞ্চলিক ভাষায় জানান গভীর রাতে প্রায়ই সেতুর কাছে বড় শব্দ পাওয়া যায়। বুঝা যায় উপর থাইক্কা ভারি কিছু ফেলা হইছে। কয়েকদিন পর কাছাকাছি কোন জায়গায় লাশ ভাইসা উঠে। চোখের সামনে অনেক লাশ ভাইসাও যায়।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতুর দুই কিলোমিটারের মধ্যে পাঁচ থানার জলসীমা। ভৈরব, বাজিতপুর, আশুগঞ্জ, সরাইল ও রায়পুরা মোহনায় লাশ ভেসে উঠলে, ডাকাতি হলে কিংবা অন্য কোন অপরাধ সংগঠিত হলে এর দায় কোন থানা পুলিশ নিতে চান না। সাথে রয়েছে মেঘনা নদীতে শহীদ আবদুল হালিম রেলওয়ে সেতু। এই সেতুর দায়িত্বে আবার রেলওয়ে পুলিশ। নানা কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে পাশের থানার উপর দায় চাপাতে চান। দায় নিতে ঠেলাঠেলির বিষয়টি অপরাধীদের ভালোই জানা। এই কারণে অপরাধ সংগঠনের স্থান হিসাবে অপরাধীরা পাঁচ থানার মোহনাকে বেছে নেন। বিশেষ করে লাশ ভেসে উঠার খবর জানামাত্র লাগোয়া থানা পুলিশ সক্রীয় হয়ে উঠে । তবে লাশের দায় নিতে নয়, নিজেদের জলসীমা থেকে অন্যের জলসীমায় ঠেলে দিতে।

এমনও হয়েছে লাশ ভেসে আসার পর ভৈরব থানা ঠেলে দিয়েছেন আশুগঞ্জ থানায়, আশুগঞ্জ থানা ভাসিয়ে দিয়েছে রায়পুরা থানায়। গত ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল ভেসে আসা দুটি লাশের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে তিন থানা পুলিশ ঠেলাঠেলি সবার নজর কেড়েছে। দুইদিন ভেসে থাকার পর উর্ধ্বতনদের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়েছিল। এই কারণে অপরাধের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর অব্যশই জানিয়েছেন মেঘনা নদীতে যদি আশুগঞ্জ উপজেলার অংশে যদি লাশ ভেসে উঠে তাহলে খবর শুনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে।
 

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা