বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সম্মেলন ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

BBaria Mapনিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি  দলের সম্মেলন বলে কথা। ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। নির্মাণ হয়েছে অনেক তোরণও। আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই এই সাজ। শহরের প্রাণকেন্দ্র টিএ রোড (ঘোড়াপট্টি), তোফায়েল আজম মনুমেন্টের চারপাশ, পুরাতন কোর্ট রোড এলাকা যেন রঙিন হয়ে উঠেছে সম্মেলন সাজে। এই প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন পৌরসভার মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন। চারদিকে শোভা পাচ্ছে ‘হেলাল  উদ্দিনকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দেখতে চাই’ এমন আকুতি ভরা ব্যানার ফেস্টুন। পরের অবস্থান সদরের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর। তবে তাকে নিয়ে নেতাকর্মীদের করা প্রচারণাগুলোয় কোন আবেদন নেই। তার বড়-ছোট বিভিন্ন সাইজের ছবি সেঁটে লেখা হয়েছে- ‘জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল হোক’। আর একেবারেই কোন প্রচারণা নেই জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের। যদিও সম্মেলন-রাজনীতি এ ৩ জনকে ঘিরেই চাঙ্গা। তাদের মধ্য থেকেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হবেন এমন আলোচনা চারদিকে। যদিও মোকতাদির চৌধুরী একবারে নিশ্চুপ। নেতাকর্মীদের সভাপতি হওয়ার দফায় দফায় অনুরোধে এখন পর্যন্ত ‘হ্যা’ বলেননি। আর মেয়র হেলাল উদ্দিন নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি সভাপতি পদের প্রার্থী। বর্তমানে সিনিয়র সহসভাপতি তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউই নেই। সভাপতি প্রয়াত। আর সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ। তাই সম্মেলনে নতুন মুখই দায়িত্ব পাচ্ছে। এটা নিশ্চিত সবাই। সেই দু-জন কারা? এরই উত্তর খুজে  বেড়াচ্ছেন সবাই সম্মেলনের এই অন্তিম সময়ে। মন-প্রাণের চাওয়ায় বিরাজ করছে সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। কিন্তু মোকতাদির চৌধুরী ‘না’-তে থাকলে কে হবেন সভাপতি। সে পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে আল মামুন সরকারের নাম। তিনি সভাপতি আর  সাবেক ছাত্রনেতা মাঈন উদ্দিন মঈন সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তাতে আবার আপত্তি অনেকের। ইতিমধ্যে আরেক সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান আনসারী সাধারণ সম্পাদক পদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মুক্তিযোদ্ধা আমানুল হক সেন্টু সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা জোরেশোরেই ঘোষণা করেছিলেন। এখন নিজেই বলছেন তিনি আর এপদের জন্য লড়বেন না। আরও দু-জন সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, হেলাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক পদের প্রতিদ্বন্দ্বী হাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন বেশ আগে। তারা এখন পুরোপুরিই নীরব। তাহলে কি আল মামুন সরকার সভাপতি আর হেলাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন। তারও নিশ্চিত কোন ধারা পাওয়া যাচ্ছে না। মোকতাদির চৌধুরীকে হেলাল নিজেই বলেছেন আপনি সভাপতি হলে আমার কোন কথা নেই। তাহলে মোকতাদির চৌধুরী সভাপতি আর হেলাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক। এটাও যেন খাপ খাচ্ছে না নেতাকর্মীদের কাছে। নাকি তাদের বাইরে অন্য কোন মুখ। যা আলোচনাতেই নেই। তাহলে কোন দু-জন হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগের আগামী দিনের কান্ডারি। গূঢ় রহস্যে আটকে যাওয়া  সবকিছুরই উত্তর হয়তো পরিষ্কার হবে আগামীকাল কাউন্সিল অধিবেশনে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি বক্তব্য ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১০ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে অনেক বক্তাই সভাপতি  নির্বাচনে অতীতের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার কথা বলেন। আগে যারা সভাপতি ছিলেন তারা সবাই ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত। সেরকম সভাপতিই চান তারা আগামী সম্মেলনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন  মোকতাদির চৌধুরী সভাপতি আর আল মামুন সরকার সাধারণ সম্পাদক এটাই চূড়ান্ত এখন পর্যন্ত। জেলার অন্যান্য আসনের দলীয় এমপিরা এ নিয়ে নির্লিপ্ত। তারা যদি কোন ভূমিকা নেন তাহলে হয়তো অন্যকিছু হতে পারে। ১০ বছর পর হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৪ সালে। ৩ বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৭ সালে। এরপর পেড়িয়ে গেছে আরও ৭ বছর। এই সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদ অলঙ্কৃত হয় ‘ভার’-এ। কারণ  সভাপতি প্রয়াত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ, পুরোপুরি বাকশক্তিহীন। দীর্ঘ এই সময়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চু ছাড়াও মারা গেছেন বেশ কয়েকজন নেতা। তারা হচ্ছেন সহসভাপতি মোশারফ হোসেন জীবন মিয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেজর অব. জহিরুল হক খান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন, সদস্য দুবরাজ মিয়া, আবদুল হক, আউয়াল মাস্টার ও শ্রম সম্পাদক আনোয়ার খান। এখন অসুস্থ রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সহসভাপতি ইসহাক ভূঁইয়া, সদস্য হামিদুল হক হামদু। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নিষ্ক্রিয়। জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন তাই নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন। শীর্ষ পদ দুটি ভার মুক্ত হবে। অন্য পদগুলো  পূরণ হবে। সক্রিয়রা জায়গা পাবে। অন্য পদগুলো পেতেও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের চেষ্টাতদবির চলছে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন সৎ, শিক্ষিত এবং দক্ষ সংগঠকদের নিয়েই এবার জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হবে। এদিকে সম্মেলনের ডামাডোলের মধ্যে মেরুকরণের দৃশ্যও উদিত হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগে এমপি বিরোধী বলয়ের হিসেবে পরিচিত সহসভাপতি শফিকুল আলম এমএসসি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজ মো. ইয়াছিন কয়েকদিন আগে মোক্তাদির চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। তারা একত্রে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  ইয়াছিন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। আর এ কারণে সংসদ সদস্য চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন তার ওপর। এই হাওয়া বদলে শুরু হয় নতুন হিসাব নিকাশ। সভাপতি নিয়ে এমপি ও মেয়রের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার খবরও মধ্যখানে ছিল হট। স্থানীয় জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে হবে সম্মেলন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হকসহ জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এম.পি

এ জাতীয় আরও খবর

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় আনার নিয়মে বড় সুবিধা

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন ৪৭ লাখ করদাতা

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক