,

আখাউড়ায় বাংলাদেশ-ভারত শূন্য রেখায় ঘুমিয়ে আছে নাম না জানা ২৫০ মুক্তিযোদ্ধা

1971 aনিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গোটা এলাকা ছিল রণক্ষেত্র। এসময় পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রণাঙ্গন আখাউড়ায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

এই যুদ্ধে যেসব বীর সেনানী আহত হতেন তাদের চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়া হতো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার জিবি হাসপাতালে।  হাসপাতালে যারা মারা যেতেন তাদের গাড়িতে করে সীমান্তে আনা হতো। আর সেখান থেকে আমরা ১০-১২ জন মিলে লাশ এনে কবরস্থানে সমাহিত করতাম। এক একটি কবরে ৪-৫টি লাশ দাফন করা হতো।

এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সেইসব দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছিলেন আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী সেনারবাদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মিয়া (৬৩)।

উদাস ভঙ্গিতে দুলাল মিয়া বলে যান, তখন আমি তরুণ। খবর পেলেই আমি এবং রাজ্জাক মেম্বারসহ আরো ১০-১২ জন মিলে ওপারে চলে যেতাম লাশ আনার জন্য। বেশির ভাগ লাশের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যেতো না।

তবে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দেওয়ার সময় মাথায় লাল কাপড় বাঁধা দেখে সোনরবাদী গ্রামের এক কিশোর তাকে ফুটবলার আজিজ বলে শনাক্ত করেছিল।

দুলাল মিয়ার বাড়ির পেছনেই একাত্তরের বীর শহীদদের এই গণকবরটি। নিজেই দেখিয়ে দিলেন শূন্য রেখায় ঘুমিয়ে থাকা ২৫০ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর।

এসময় তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া এই গণকবরটি যেন বেষ্টনী দিয়ে পাকা করা হয়।

সরকার শহীদদের এই গণকবরটি রক্ষা করেছে দেখে যেতে না পারলে মরেও শান্তি পাব না।

আখাউড়ার সেনারবাদী সীমান্তের ২০২১/এস পিলার বরাবর ১০ গজ ভারতের ভেতরে গণকবরটির অবস্থান। ঘন জঙ্গলে বিভিন্ন ধরনের গাছ আর লতাপাতায়  ঢাকা পড়েছে গণকবরটি। কেউ দেখিয়ে না দিলে গণকবরটি শনাক্ত করা খুবই কঠিন। কে বলবে এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে ২৫০ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা?

বাউতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক মেম্বার বলেন, নিজ হাতেই এই গণকবরে প্রায় আড়াইশ’  শহীদের লাশ মাটি দিয়েছি।

স্বাধীনতার এতো বছর পরও শহীদদের এই স্মৃতি ধরে রাখতে না পারাটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। তিনি গণকবরটি রক্ষার জোর দাবি জানান।

সেনারবাদী গ্রামের ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গণকবরটি  দেখতে প্রায় সময়ই শহীদদের স্বজনরা এখানে আসেন। কিন্তু স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা। আমি মনে করি শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে হলেও গণকবরটি পাকা করা প্রয়োজন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবীব বলেন, আমি আখাউড়া আসার পরই গণকবরটি দেখতে সেনারবাদী গিয়েছিলাম। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে খুব শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা