,

সরাইল সেটেলম্যান্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্য

Crime Logoমাহবুব খান বাবুল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সেটেলম্যান্ট অফিসে পর্চা বিতরনে চলছে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য। শোষিত হচ্ছে অজপাড়া গাঁয়ের দরিদ্র কৃষক ও সাধারন মানুষ। এ কাজে সহায়তা করছে অর্ধডজনের অধিক স্থানীয় দালাল চক্র। তাদের টার্গেট তিন লক্ষাধিক টাকা।রোববার সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সেটেলম্যান্ট অফিসে শত শত লোকের ভিড়। কারো হাতে কাগজের টোকেন। কারো হাতে পুরাতন পর্চা। টেবিলে বসে পর্চা বিতরন করছেন অফিসের সহকারি কর্মকর্তারা। প্রত্যেকটি পর্চার সরকার নির্ধারিত মূল্য ষাট টাকা হলেও সাধারন খেঁটে খাওয়া লোকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১২০ টাকা। দাগ নাম্বার তালাশের নামে নেয়া হচ্ছে ২’শ টাকা করে। দ্বিগুন টাকা আদায়ের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকার অর্ধডজনেরও অধিক দালালের উপস্থিতি রয়েছে ওই অফিসে। প্রত্যেক দালালের হাতে রয়েছে শতাধিক পর্চা। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন দালালরা। পাকশিমুল গ্রামের বাসিন্ধা দালাল রাজিব (২৭) একাই উত্তোলন করেছেন শতাধিক পর্চা। নিজেকে জমিদার দাবী করেন তিনি। বাকী দালালরা মূহুর্তের মধ্যে আড়াল করে নেন নিজেদের। দৌড়ে আসেন শোষিত গ্রাহকরা। পরমানন্দপুর গ্রামের নূর ইসলাম (৭০), শিশু মিয়া (৬০) ও জয়ধরকান্দী গ্রামের হাজী ফরুখ আলী (৫৫) জানান, একটি প্রিন্ট পর্চার জন্য তাদেরকে আগে ১২০ টাকা দিতে হয়। নতুবা কাগজেই হাত দেয় না। আবার দাগ নাম্বার খোঁজার কথা বলে কুমিল্লা যাওয়ার ভাড়া বাবদ আদায় করছে ২’শ টাকা করে। এটা কোন খেলা। বড়–ইছাড়া গ্রামের ওয়াহেদ মিয়া (৫৬) বলেন, আমার দুই কানি জমি। এটার জন্য তৈরী করেছে আটটি পর্চা। লেখাপড়া জানি না। তাই তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। আটটি পর্চার জন্য আমাকে গুনতে হয়েছে ৯৬০ টাকা। সেটেলম্যান্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, পাকশিমুল ইউনিয়নের মাত্র পরমানন্দপুর ও জয়ধরকান্দি গ্রামের প্রিন্ট করা পর্চা বিতরনের কাজ চলছে। পরমনন্দপুরে ২ হাজার ২৩২ টি ও জয়ধরকান্দি গ্রামের ১ হাজার ৬৮৭টি পর্চা বিতরন করা হবে। সব মিলিয়ে তাদের টার্গেট তিন লক্ষাধিক টাকা। বিতরনের দায়িত্বে নিয়োজিত খারিজ সহকারি বিশ্ব রঞ্জন ত্রিপুরা, সার্ভেয়ার মোঃ মনির হোসেন পর্চার জন্য দ্বিগুন ও তালাশির জন্য ২’শ করে টাকা নেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, আমাদের খরচপাতি ও কুমিল্লার ভাড়ার জন্য এ টাকা নিচ্ছি। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায় বেআইনি। আমি এ বিষয়টি নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে এক টাকা নেওয়ার ও কোন বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিব।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ