,

মিয়ানমারের সংযতা নিয়ে হেরাল্ড ট্রিবিউন ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন : ধর্মীয় দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা

1412006519.আশিন উইরাথ মিয়ানমারের এক প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু। অতীত পাপ মোচনের জন্য প্রার্থনা করলেন তিনি। এরপর সমবেত হাজারো ভক্তের উদ্দেশে ধর্মোপদেশ দেয়া শুরু করলেন। ধর্মোপদেশে দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উৎখাতের দিক-নির্দেশনা দিলেন। ভক্তদের তিনি বললেন, তোমরা দয়া আর ভালোবাসায় পূর্ণ থাকতে পার, কিন্তু পাগলা কুকুরের পাশে ঘুমাতে পারে না। তার মতে, এ পাগলা কুকুর বলতে তার দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বুঝিয়েছেন। এভাবেই মিয়ানমারে বর্তমান চলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উসকে দিচ্ছেন চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। হেরাল্ড ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সহিংসতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনেও একই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে মিয়ানমারের বৌদ্ধদের মধ্যে চরমপন্থা বাড়ছে ও হেরাল্ড ট্রিবিউন মিয়ানমারের এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর উত্তেজিত হওয়ার ডাক শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। পত্রিকা দুটির অভিমত হলো, মিয়ানমারের ভিক্ষুরা সে দেশের মুসলমানদের হত্যা করার জন্য বারবার ইন্ধন জুগিয়ে আসছে।

দুই ঘণ্টা ধর্মোপদেশ দেয়ার পর ওই বৌদ্ধ ভিক্ষু এক সাংবাদিককে বলেন, আমি মুসলমানদের সমস্যা সৃষ্টিকারী বলি কেননা তারা সমস্যা সৃষ্টিকারী। আমাকে উগ্রপন্থী বলায় আমি গর্বিত বোধ করি। বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধদের সহিষ্ণুতা নিয়ে যে ইতিবাচক ধারণা মানুষের আছে তার কোনো লক্ষণ নেই আশিনের মতো চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। ধ্যানে মগ্ন থাকার চেয়ে অস্ত্র বহন, বিষোদগার আর উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়াতেই ব্যস্ত তারা। অর্থাৎ মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞের পুরোহিত যে ভিক্ষুরা তা নিঃসন্দেহ। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ২০০ জনেরও বেশি মুসলমানকে হত্যা করেছে। আর দেড় লক্ষাধিক মুসলমানকে বাস্তুচ্যুত করেছে। দেশব্যাপী উগ্রবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ধর্মোপদেশ সংবলিত বক্তব্য ডিভিডি আকারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে। মুসলমানদের তৈরি জিনিস ও পণ্য বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে নিয়মিত ধর্মোপদেশে। সহিংসতাকে জোরদার করতে কমিউনিটি সেন্টার খোলা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ৬০ হাজারেরও বেশি বৌদ্ধশিশু নিয়ে রোববারের স্কুল কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সানডে ধর্ম স্কুল নামের কর্মসূচিতে শিশুদের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে তীব্র মুসলমানবিদ্বেষী ধারণা। সামরিক রাষ্ট্র থেকে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রবেশ করলেও সাম্প্রদায়িক হিংসার জন্যে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং এশীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মিয়ানমারবিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অসামরিক সরকার প্রচলিত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন ভিক্ষু অশিনরা। এর আগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার কারণে আট বছর জেলে থাকতে হয়েছিল তাকে। নতুন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দির সঙ্গে সম্প্রতি তিনিও মুক্তি পান। সম্প্রতি ধর্মোপদেশে গত মার্চে মেইকতিলা শহরে স্কুলশিশু ও অন্যান্য মুসলমান বসতিতে গণহত্যাকে শক্তি প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন অশিন। একটি মানবাধিকার সংস্থা ওইসব গণহত্যার অভিযোগ করেছে। অশিন বলেন, যদি আমরা দুর্বল হই আমাদের ভূমি মুসলমানদের হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রতি ১০ জনের ৯ জনই বৌদ্ধ। দেশটির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৪ থেকে ৮ শতাংশ মুসলমান।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ