,

ইরাকে জঙ্গি আগ্রাসন, আতঙ্কে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি

irakসুন্নিপন্থী জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে দখল নিয়েছে ইরাকের কয়েকটি এলাকার। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ালা, মসুল এবং সাদ্দাম হোসেনের জন্মস্থান তিকরিতের দখল নিয়েছে তারা। এ ছাড়া বাগদাদের ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাল আফার ও বাকুবা শহরের বেশির ভাগ এলাকা এরই মধ্যে তাদের দখলে। এখন উত্তরাঞ্চল থেকে তারা অগ্রসর হচ্ছে রাজধানী বাগদাদের দিকে। জঙ্গিদের সঙ্গে সেখানকার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে বেশ বিপাকে পড়েছে বেসামরিক মানুষ ও বিদেশিরা। এই পরিস্থিতিতে ইরাকে অবস্থানরত প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির দিন কাটছে আতঙ্কে।

জানা গেছে, ইরাকে সুন্নি বিদ্রোহীদের হাতে বেদখল হয়ে যাওয়া মসুল শহর থেকে আটকে পড়া ৫১ জন এবং তিকরিত শহরের দুটি ফাস্ট ফুডের দোকানে আটকে পড়া ২১ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে ইরাকে জনশক্তি পাঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সেখানে দূতাবাসে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিশেষভাবে নজর রাখার জন্য। গত শনিবার এসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান খান বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরাকে কোনো বাংলাদেশি অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। যেসব বাংলাদেশি জঙ্গিদের দখলে থাকা এলাকায় আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের উদ্ধার করে কুর্দিস্থানের এলবি নামের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।’ তবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীরা মূলত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে বেশি অবস্থান করছেন। ইরাকের নাজাফ, কারবালা ও বসরায় বাংলাদেশিরা কাজ করেন। ওই সব এলাকায় আমাদের প্রবাসী কর্মীরা অনেকটা নিরাপদে আছেন। অনেকে উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও এখন পর্যন্ত ভয়ের কিছু নেই।’

সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড গ্রেটার সিরিয়া (আইএসআইএস) এ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইরাকে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আগে এ সংগঠনের নাম ছিল আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট)।

এদিকে গতকাল বার্তা সংস্থা ডোগানের এক প্রতিবেদনে ইরাকি জঙ্গিদের হাতে বাংলাদেশি কর্মী অপহৃত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের কিরকুকের কাছে ৬০ জন বিদেশি নির্মাণ শ্রমিককে ইসলামী জঙ্গিরা অপহরণ করেছে। অপহৃতরা তুরস্ক, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও তুর্কমেনিস্তানের অধিবাসী। তবে এ খবর নাকচ করেছেন ইরাকে দায়িত্বরত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে ওই বাংলাদেশিরা অনেক অর্থ খরচ করে ইরাকে যাওয়ায় বর্তমান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইছেন না।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইরাকে একসময় কয়েক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করতেন। কিন্তু ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছিলেন। যুদ্ধ শেষ হলে ২০০৯ সাল থেকে আবারও বাংলাদেশি জনশক্তি সেখানে যাওয়া শুরু করে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন ১৪ হাজারের মতো বাংলাদেশি ইরাকে রয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা  প্রায় ২০ হাজার। গত কয়েক বছরে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির পর থেকে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেখানে নিয়মিত শ্রমিক পাঠাচ্ছে। সম্প্রতি ইরাকি একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ পরিদর্শনে আসে। তারা প্রায় ৩০ হাজার কর্মী বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ইরাকে শ্রমিক পাঠানোও শুরু হয়েছিল। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই আমরা আপাতত ইরাকে জনশক্তি পাঠানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ইরাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ইরাকের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন তাঁদের সরকারি খরচে দেশে ফেরত আনা হবে। বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া ৫১ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে সরকারি উদ্যোগে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সভাপতি আবুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলেই সরকার জনশক্তি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এতে আট থেকে ১০ হাজার শ্রমিক ভিসা সমস্যায় পড়তে পারেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার যেন সেই সব শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সহায়তা করে।’

প্রবাসী বাংলাদেশিরা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ইরাকের উত্তর থেকে বিদ্রোহী জঙ্গিরা বাগদাদের দিকে এগিয়ে আসছে। বাগদাদ থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে কারবালায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের তুমুল যুদ্ধ চলছে। বাংলাদেশি শ্রমিক কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রেজাউল ইসলাম শনিবার মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বাগদাদের দক্ষিণে আছি। অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি একটি কনস্ট্রাকশন বিভাগে কাজ করছি। সবার মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নির্মাণ শ্রমিক প্রবাসী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জঙ্গিরা বহুজাতিক কম্পানি কিংবা তাদের প্রতিষ্ঠানে বেশি হামলা করছে। বাগদাদের বিসমিয়াহ নিউ সিটি হাউজিং প্রকল্পের (বিএনসিপি) কর্মী বিল্লাহ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কম্পানিতে পাঁচ দেশের কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। বিদ্রোহীরা বাগদাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে শুনে আতঙ্কের মধ্যে আমাদের দিন কাটছে।’

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ