,

মোদির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন খালেদাও!

modi+khaledaভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানের ‘কূটনৈতিক চমক’ আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বিদেশি নেতাদের আমন্ত্রণে এই কূটনৈতিক চালের অংশ হিসেবে এবার তিনি সার্ক দেশগুলোর বিরোধীদলীয় নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রণ পেতে পারেন খালেদা জিয়াও। এ ছাড়া শপথ অনুষ্ঠানের পরের দিনই মোদি বিদেশি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানানোর পর বিজেপির গোঁড়া সমর্থকরা যে ধাক্কা খেয়েছিল, সেখানে আরো বড় আঘাত হয়ে আসতে পারে পাকিস্তানি নেতার নেতিবাচক জবাবের আশঙ্কা। কারণ নওয়াজ শরিফ এখনো মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি এবং আজ শনিবার তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে নওয়াজ ব্যক্তিগতভাবে তাতে যোগ দিতে চাইলেও তিনি তালেবান ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্মতির অপেক্ষায় আছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানানোর ‘অস্বস্তির’ মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠানে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের’ আমন্ত্রণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আরেকটি অস্বস্তি তৈরি করলেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৭ মে আমন্ত্রিত বিদেশি নেতাদের সঙ্গে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের একটি গুচ্ছ পরিকল্পনা করেছেন। আর এই দিনটি হচ্ছে মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরের দিন। প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই হবে মোদির প্রথম কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া। এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রতি নেতার জন্য ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার নামে সার্ক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ‘রসায়ন তৈরি’র সুযোগ নেবেন ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২৬ মে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সফরকারী নেতাদের জন্য মোদি একটি ভোজসভার আয়োজন করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক মুখপাত্র সাইয়েদ আকবর উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, মালদ্বীপের প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লা ইয়েমিন আবদুল গাইয়ুম। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানালেও তাঁর পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্বনির্ধারিত জাপান সফরের কর্মসূচি থাকায় তিনি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। আর সার্ক দেশগুলোর নেতাদের বাইরে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মৌরিতাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলম।

তবে আমন্ত্রিত নেতাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয় নিশ্চিত করেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার নওয়াজের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা ছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। আজ শনিবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদের সূত্রগুলো। তবে তালেবান ও সেনাবাহিনীর ওপর এই সম্মতি নির্ভর করায় গতকাল পর্যন্ত তাঁর ভারত সফর যতটা অনিশ্চিত ছিল, এক দিন পিছিয়ে দেওয়ায় এর সম্ভাবনা বেড়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর খবর। নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চান। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটানো। তবে পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সম্মতি জানাবেন। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ নিমন্ত্রণ নওয়াজকে জটিল সিদ্ধান্তে ফেলে দিয়েছে। কারণ পাকিস্তানি কূটনীতিকরা মনে করেন, আমন্ত্রণ গ্রহণ না করলে যেমন ভারতকে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হবে, তেমনি যোগ দিলে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেও জটিল করতে তুলতে পারে।

এদিকে বিজেপির মুখপাত্র নির্মলা সীতারমন জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে তাঁরা কেবল ‘বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ই আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্কের সব দেশ থেকে ভারতে আসা অবৈধ অভিবাসীদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কেবল বাংলাদেশি অভিবাসীদের নয়। সুতরাং তাদের (বাংলাদেশি) আলাদা করার সুযোগ নেই।’

খালেদাকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে : এদিকে দিল্লিতে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। বিজেপির সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা খালেদা জিয়া এবং শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলীয় নেতা রনিল বিক্রমাসিংহের নাম রয়েছে।

মমতা যাচ্ছেন না : অন্যদিকে মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলের পক্ষ থেকে অমিত মিশ্র ও মুকুল রায়কে অনুষ্ঠানে পাঠাবেন। ইতিমধ্যে এই দুই নেতাকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারাভিযান চলাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদি পরস্পরের উদ্দেশে তিক্ত বাক্য বিনিময় করেন। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, জি নিউজ।

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে