,

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য ব্যাঙের নতুন দুই প্রজাতির সন্ধান

ব্যাঙের ডাক ও ডিএনএ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এই উভচর প্রাণীটির নতুন দুটি জাত আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাহমুদুল হাছান৷

এই ব্যাঙ দুটির একটির নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক মোখলেসুর রহমানের নামে, ‘মাইক্রোহিলা মোখলেসুরি’৷ অন্যটি ময়মনসিংহ জেলার নামে ‘মাইক্রোহিলা মাইমেনসিংহেসিস’৷

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোখলেসুর রহমানের কাছে ব্যাঙ গবেষণায় হাতেখড়ি মাহমুদুল হাছানের৷ দ্বিতীয়টির দেখা মেলে ময়মনসিংহ অঞ্চলে, নামকরণও সেখান থেকে৷

এ বছর বিশ্বের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক প্রভাবশালী জার্নাল জুয়োলজিক্যাল সায়েন্স ও জুটেক্সা এই দুই প্রজাতির ব্যাঙ নিয়ে ইতিমধ্যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী ইনোভেশন-এ প্রচ্ছদ প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে৷ ডিএনএ আর ব্যাঙের ডাক বিশ্লেষণ করে প্রজাতি নির্ধারণের কৌশল উন্নত বিশ্বে অনেক আগে থেকে শুরু হলেও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের কাছে এটা নতুন৷

প্রাণিবিজ্ঞানী ও দুবাই চিড়িয়াখানার প্রধান রেজা খান মাহমুদুল হাছানের এ দুই প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কারকে দেশের প্রাণিবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা হিসেবে মনে করেন৷ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিএনএ ও ডাক বিশ্লেষণ করে ব্যাঙের জাত আবিষ্কারের ফলে আগামী দিনে হয়তো আরও নতুন প্রজাতির ব্যাঙ সম্পর্কে আমরা জানতে পারব৷’

মাইক্রোহিলা মোখলেসুরি ব্যাঙের দেখা পাওয়া যায় চট্টগ্রামের রাউজানেমাহমুদুল হাছান বর্তমানে জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি জানান, অনেক ব্যাঙ আছে, যেগুলো দেখতে একই রকমের হলেও তারা ভিন্ন প্রজাতির৷ একমাত্র ডিএনএ ও ডাক বিশ্লেষণ করেই এই প্রজাতিগুলোর বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়৷ ডিএনএ জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশনা ধারণ করে৷ বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে ব্যাঙগুলোর পায়ের নখের নমুনা জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করে এদের জাত নির্ধারণ করা হয়েছে৷

মাহমুদুল ‘মাইক্রোহিলা মোখলেসুরি’ প্রজাতিটির দেখা পান চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়৷ তবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে, অর্থাৎ চট্টগ্রাম এলাকায় এর দেখা পাওয়া যায়৷ আর মাইক্রোহিলা মাইমেনসিংহেসিস ব্যাঙটি ময়মনসিংহের পাশাপাশি মধ্য ও মধ্য-পূর্ব অঞ্চল তথা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়৷

মাইক্রোহিলা মোখলেসুরিকে তার সহোদর থেকে আলাদা করে চেনার উপায় হলো, এটির আঙুলের অগ্রভাগ স্ফীত নয়৷ একটি উল্টো “ট” চিহ্ন পায়ুর ঠিক ওপরে আছে৷ তা ছাড়া দেহের পিঠের ওপরে আছে “ঢ” আকৃতির দাগ৷

মাইক্রোহিলা ময়মনসিংহেসিসে পায়ুর ওপরে অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি দাগ রয়েছে৷ আর পেছনের পা খুব লম্বা৷ এর ফলে এরা অন্যদের তুলনায় অতি দ্রুত ঝটপট লাফ দিতে পারে৷

প্রাণিবিজ্ঞানীদের গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৪৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে৷ এর মধ্যে ব্যাঙ ৪৭ প্রজাতির৷

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর