বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর

news-image

আজ বৃহস্পতিবার ভয়াল ১২ নভেম্বর। উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলাবাসীর বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নের দিন। ১৯৭০ এর এই দিনে উপকূলবাসীর জীবনে নেমে আসে এক মহাদুর্যোগ। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় গোর্কী ও জলচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভোলার জনজীবন। পুরো জেলা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। ১২ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের সামুদ্রিক জলচ্ছ্বাস ও প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে নিমিষেই তলিয়ে যায় উপকূলীয় চরাঞ্চলের বাড়িঘর আর মাঠের সোনালী ফসল। স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল কয়েক লাখ মানুষ ও গবাদি পশু। পুরো উপকূল যেন বিরানভূমিতে পরিণত হয়।

জলোচ্ছ্বাসের পর থেকে দেড় মাস পর্যন্ত স্বজন হারানোদের কান্নায় উপকূলের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। গত ৪৪ বছরে যে কয়টি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে তার মধ্যে ৭০ এর ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে ভয়াবহ ও হিংস্র ছিল বলে মনে করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঘূণিঝড়টি উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী  বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বাগেরহাট, খুলনাসহ ১৮টি জেলায় আঘাত হানে। উপকুলীয় জেলাগুলোর মধ্যে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় দ্বীপ জেলা ভোলায়। ওই সময় তথ্যপ্রযুক্তি দুর্বল থাকায় উপকূলের বহু মানুষ ঝড়ের পূর্বাভাস পাননি। ওই সময় ১০ থেকে ১৪ ফুট উচ্চতার জলচ্ছ্বাস হয়। গত  ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কান্না থামেনি উপকূলীয় এলাকার স্বজনহারা লাখো মানুষের।

৭০ এর ভয়াল সেই স্মৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং ওই সময়ের দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার ভোলা সংবাদদাতা এম হাবিবুর রহমান (৭২) কালের কণ্ঠকে বলেন, "সেদিন ছিল রোজার মাস। সকাল থেকেই মেঘে আচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের পর থেকে আস্তে আস্তে বাতাস বইতে শুরু হয়। বিকেলের দিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। সন্ধ্যায় বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর বাতাস ও বৃষ্টির প্রচণ্ডতা বেড়ে যায়। রাত প্রায় আড়াইটার দিকে মেঘনা-তেঁতুলিয়া ও বঙ্গোপসাগরের পানি ১৪ ফুট উঁচু বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গোটা জেলা তলিয়ে যায়। শহরের সদর রোডে হাঁটুর ওপরে ৩-৪ ফুট পানি ওঠে। 'পানি আইতাছে' বলে চিৎকার দিয়ে শহরের আশপাশের এলাকা থেকে বহু নারী-পুরুষ ও শিশু ছুটোছুটি করে ভোলা শহরের দিকে ধাবিত হয়ে কালিনাথ রায় বাজারের তৎকালীন অগ্রণী ব্যাংকের দোতলায়, সদর রোডের বরিশালের দালান, টাউন স্কুল এবং ভোলা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়।"

এম হাবিবুর রহমান আরো বলেন, "পরদিন ১৩ নভেম্বর ভোরে পানি যখন নামতে শুরু করে তখন প্রচণ্ড বেগে জলচ্ছ্বাসের পানির স্রোতে বেশ কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার ও লঞ্চ শহরে ঢুকে পড়ে। পানিতে ভেসে যাচ্ছে অগণিত মানুষের লাশ। বিভিন্ন গাছের মাথায় ঝুলতে দেখা যায় মানুষ ও পশুর মৃতদেহ। চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। যেন লাশের মিছিল হয়েছিল ৭০ এর জলচ্ছ্বাসে। গোটা জেলাকে তছতছ করে দিয়েছে। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল ভোলার জনপদ। শুধু মনপুরা উপজেলায়ই ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ১৭ হাজার মানুষ পানিতে ভেসে গেছে। তাদের কাউকেই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।" দিনটিকে স্মরণে রাখতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে