বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিপুরায় বসে বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনা!

news-image

পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় কাণ্ডের ১৩ মাসের মাথায় ত্রিপুরায় ধরা পড়ল জেএমবি জঙ্গি জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২)। তার পরিকল্পনা ছিল সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে ঢুকে নাশকতা চালিয়ে ফের ভারতে পালিয়ে আসার। ধরা পরার পর প্রথম জেরায় এমনটাই জানিয়েছে জাহাঙ্গীর। পাশাপাশি স্বীকার করেছে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় সে যুক্ত ছিল। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। ত্রিপুরায় সে জঙ্গি হামলা ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিল।
 
ত্রিপুরা পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজ্যের সিপাহীজালা জেলার যাত্রাপুর থানা এলাকার হেমায়েতপুর গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। নিজের পরিচয় যাতে প্রকাশ না পায় এ জন্য বাড়িওয়ালার মেয়েকে বিয়ে করেছিল সে। গত এক বছর ধরে সেখানেই থাকছিল। কয়েকদিন আগে পুলিশের কাছে খবর আসে কিছু অপরিচিত লোক জাহাঙ্গীরের বাড়িতে যাতায়াত করছে। রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি শুরু করে। খবর দেয়া হয় ভারতের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি-এনআইএ’কে। নজরদারি চালিয়ে এবং দুজনকে আটক করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে জাহাঙ্গীর বর্ধমান নাশকতার সঙ্গে যুক্ত। এরপরই তাকে  গ্রেফতার করা হয়।
 
যাত্রাপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরকে ত্রিপুরার সোনামুড়া আদালতে তোলা হলে তাকে ৭ দিনের জন্য রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জেরাও শুরু করেছে এনআইএ। জেরায় জাহাঙ্গীর জানিয়েছে, তার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশে হামলা চালানোর। সেই জন্য নতুন করে সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের কোথায়, কীভাবে হামলার পরিকল্পনা করেছিল তা জানার চেষ্টা করছেন এনআইএ’র গোয়েন্দারা।
 
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে গ্রেনেড তৈরির সময় বিস্ফোরণে ২ জনের মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, বাংলাদেশ জুড়ে সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি ঘাঁটি গড়েছিল জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ তথা জেএমবি। উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়ে শরীয়ত পরিচালিত ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এ ঘটনার তদন্তে নেমে নারায়ণগঞ্জের সাজিদসহ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।
 
পরবর্তীতে আদালতে চার্জশিট দিয়ে এনআইএ জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৪ জেলা বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ ছাড়াও আসাম ও ঝাড়খণ্ডে একাধিক জঙ্গি শিবির খুলেছিল জেএমবি। সেখানে গ্রেনেড তৈরির প্রশিক্ষণ ছাড়াও দেয়া হতো অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ। সেখানে ইতিমধ্যে অন্তত ৫০০ জন জেহাদী প্রশিক্ষণপেয়েছে। নারীদের জন্যও খোলা হয়েছিল আলাদা শিবির। বলা হয়েছিল বাংলাদেশি নাগরিক তালহা শেখ, কাউসার ও সাহাদাত শেখ ওরফে নাসিরুল্লাসহ এই ঘটনায় যুক্ত ৮ জঙ্গি এখনও পলাতক। এরা বাংলাদেশে ঢুকে লুকিয়ে থাকতে পারে।
 
এদিকে এনআইএ’র হাতে গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি সাজিদ ওরফে রহমতুল্লা জেরায় জানিয়েছিল, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে সরানো যাবে না-এটা বুঝতে পেরেই জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। সে জন্য বর্ধমানসহ পশ্চিমবঙ্গের আরো কয়েক জায়গায় শিবির করে শুরু হয় বোমা ও গ্রেনেড তৈরির প্রশিক্ষণ। তাদের একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশে ঢুকে  শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালানো, বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা। এজন্য ১৫০ জন নারীকে জঙ্গি প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন ত্রিপুরায় আটক জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে নতুন করে সেই পরিকল্পনা কার্যকর করার চেষ্টা হচ্ছিল কি না, ভারতীয় গোয়েন্দারা তা-ই খতিয়ে দেখছেন।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা