হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান
অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে এসব জাহাজকে নিরাপদে পারাপারে সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে মুসলিম ভাই-বোন হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তায় সহযোগিতার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য ইরান নতুন ড্রোন তৈরি করেছে এবং যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে হাফিজ ও শেখ সাদির মতো কবির দেশের মানুষ হিসেবে ইরান যুদ্ধের পরিবর্তে শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবতায় বিশ্বাস করে।
আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই দাবি করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে তেহরানও কোনো আরব দেশে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তিনি পশ্চিমা হস্তক্ষেপমুক্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সংঘাত ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতার কারণে ইয়েমেনের হুতি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।
শিয়া-সুন্নি বিভাজনকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, হামাস সুন্নি সংগঠন হলেও ইরান তাদের সমর্থন করে। একইভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদেরও সমর্থন দিতে প্রস্তুত ইরান।
লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি। সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।











