ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেসি আসকারকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা পিয়া ডান্ডিয়া। ৩৯ বছর বয়সী পিয়া ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত দ্বিতীয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এর আগে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন প্রমিলা জয়াপাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিয়া পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ব্যবসায়ী কেসি আসকারকে সমর্থন দিতে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল। তাই এ জয়কে ডেমোক্র্যাটদের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কে এই পিয়া ডান্ডিয়া
ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা পিয়ার শৈশব কেটেছে জুপিটার এলাকায়। তাঁর বাবা-মা ১৯৮০-এর দশকে ভারতের জয়পুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। সেখানে তাঁর বাবা চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আর মা মাত্র ৪০ বছর বয়সে জুপিটারে একটি মন্টেসরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই পিয়ার ঘনিষ্ঠতা ছিল। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে বাবা-মা তাঁকে একা ভারতেও পাঠাতেন। ২০২৫ সালের আগস্টে *নিউ ইন্ডিয়া অ্যাব্রড*কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিয়া বলেছিলেন, ভারতে কাটানো শৈশবের সময় তাঁর জীবন ও চিন্তাভাবনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক বৈষম্য সম্পর্কে তাঁর ধারণা তৈরি হয়।
বর্তমানে স্বামী নভনীত আলাগ ও ছেলে সাহিবকে নিয়ে পাম বিচ গার্ডেন্সে বসবাস করছেন পিয়া।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
পিয়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রথম বর্ষ শেষে ভারতের নয়াদিল্লির একটি বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ইংরেজি শেখানোর কাজে যুক্ত হন তিনি। এক গ্রীষ্মে আশা কো-অপারেটিভ সোসাইটির সঙ্গে সাত থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের পড়ান।
এই অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে। পিয়ার মতে, মানুষের সম্ভাবনার চেয়ে অনেক সময় তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিই জীবনের পার্থক্য তৈরি করে।
পরে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। ‘টিচ ফর আমেরিকা’ কর্মসূচির আওতায় বোস্টনে শিক্ষকতা শুরু করেন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কের হারলেমে ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান।
তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ছিল নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়টির সব স্নাতক শিক্ষার্থীই কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল।
২০২০ সালে হোয়াইট হাউস ফেলো হিসেবে অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক পরিষদ ও মার্কিন শিক্ষা বিভাগে কাজ করেন পিয়া। পরে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলে সরকারি খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার তাঁকে রাজ্যের পি-২০ কাউন্সিলেও নিয়োগ দিয়েছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন
নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, দুর্নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আগ্নেয়াস্ত্রের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন পিয়া।
*ফ্লোরিডা পলিটিকস*কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষিণ ফ্লোরিডার মানুষ ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ওয়াশিংটনের লোকদেখানো রাজনীতিতে বিরক্ত। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করাই তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকার।
নির্বাচনে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিয়ার নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়ে প্রায় ৪৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে কেসি আসকার সংগ্রহ করেন প্রায় ৭৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ লাখ ডলারই ছিল নিজের প্রচারণায় তাঁর দেওয়া ঋণ।
এ ছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাগা ইনকরপোরেটেডের অর্থায়নে পরিচালিত ‘নো গোয়িং ব্যাক প্যাক’ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার ব্যয়ের কথা জানায়। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রধান নির্বাচনী অর্থায়নকারী সংগঠন ‘হাউস মেজরিটি প্যাক’ আসকারের বিরুদ্ধে ব্যয় করে প্রায় ৭৯ লাখ ডলার।
পিয়ার পক্ষে সমর্থন জানায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের সংগঠন ইন্ডিয়ান আমেরিকান ইমপ্যাক্ট ফান্ড, সার্ভ আমেরিকা পিএসি এবং ফ্লোরিডার ওয়েলিংটনের রিপাবলিকান মেয়র মাইকেল নেপোলিওন।
নির্বাচনের ফলাফলে পিয়া ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আসকার পান ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।











