প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন অনুকরণীয় ব্যক্তির সাক্ষাৎ
অনলাইন ডেস্ক : নিজ নিজ উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকলেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
তাঁদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে এমন উদ্যোগী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমাজের আরও মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।
নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ করতে নিজ উদ্যোগে শিক্ষাসামগ্রী ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন নায়লা।
নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে কর্মরত আছেন ১০ জন শিক্ষক। আলতাফ নিজেও পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁর কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বৃক্ষরোপণ করছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেন। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তিনজনের কাজের প্রশংসা করে তাঁদের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সমাজের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের এমন ভূমিকা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের উদ্যোগ শিক্ষা বিস্তার, প্রতিবন্ধকতা জয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।











