রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক : মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অনিয়মিত অভিবাসনও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। আফসানা বেগমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক সমস্যা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
আগামী বুধবার প্রতিনিধিদলটির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা কমাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিনিধিদল।
রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে টেকসইভাবে ফেরত পাঠানো এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে সক্রিয় থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বৈঠকে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে এপিপিজির ভূমিকার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা ও সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এপিপিজি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে আরও তুলে ধরতে সংগঠনটির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে সংসদীয় সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবসম্পদ এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে মতবিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।











