,

রাবির হল প্রভোস্ট প্রত্যাহার

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোববার রাতের হামলার ঘটনা তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আগামী বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পরে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ থাকলেও সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকে দায়ী পাওয়া যায়নি। এরপরও প্রশাসন তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের পর প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশাসন তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভা করবে।

আন্দোলনকারীরা ছয়টি দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল-মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ করে তাদের গ্রেপ্তার, জড়িতদের তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার, তদন্ত শেষ করে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং যারা আর শিক্ষার্থী নন, তাদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।

সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলা ও হামলাকারীদের সমর্থন করার অভিযোগে হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা। এ ছাড়া ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

হামলার ঘটনায় প্রশাসনের অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। রাত ১০টা ২০ মিনিটে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের ফটকে তালা দেন। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রায় ৪৫ মিনিট ভেতরে আটকা থাকেন।

পরে রাত ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের একদল প্রতিনিধি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে যান।

আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের প্রধান দাবি ছিল, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে প্রশাসনকে মামলা করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।

প্রসঙ্গত, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহত সাংবাদিকেরা হলেন-দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর এহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফুজ্জামান কোরবান ও সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু।

পরে হল প্রশাসন এ ঘটনায় মামলা করে। এতে কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়।

এদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার সংগঠনটির দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।