শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: ভারতীয় হাইকমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর একটি অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং এর সঙ্গে আদালতের কার্যক্রমও সম্পৃক্ত। এ কারণে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ তুলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। শেখ হাসিনাকে বহনকারী সামরিক বিমান ভারতে পৌঁছানোর ঘটনা সম্পর্কে ভারত আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, ওই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভারত শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করেছিল। ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোনো দেশেই যেন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছে ফেরত চেয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছে, এ-সংক্রান্ত অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু পারস্পরিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনও রয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে, সেটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।











