পর্যটনে জিডিপির অবদান ৬ শতাংশে নিতে চায় সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে সরকার এককভাবে কাজ করলে হবে না। এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পর্যটনের বিকাশে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকে আধুনিক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের খাতে পরিণত করার কাজ চলছে।
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, নদী ও সুন্দরবনের মতো বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বড় সম্ভাবনা। এসব সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।
বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ বা লিজের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। এ বিষয়ে গবেষণায় উঠে আসা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করবে।
সচিব আরও জানান, ভিসা নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজও চলছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন, কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম, ওয়াটার ট্যুরিজম ও ব্যাকওয়াটার ট্যুরিজমের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়। টেকসই পর্যটন উদ্যোগ, হোটেল, ট্যুর অপারেটর, বিনোদন পার্ক, পর্যটন উদ্যোক্তা, হোমস্টে, প্রযুক্তি উদ্যোগ, ট্যুরিস্ট ভেসেল, ট্যুর গাইড ও পর্যটন সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ খাতটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।











