,

মির্জা ফখরুলই কি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন?

news-image

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে, বিএনপির তরফে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে।

তবে এখন পর্যন্ত যত জনের নাম আলোচনায় রয়েছে তন্মধ্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম উঠে আসছে বারবার। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি নিচ্ছেন তারেক রহমান।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ঘুরেফিরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নামও শোনা যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকে বলছেন, আভাস কি তাহলে মিলছে যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

রাজধানীতে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‌‘আমরা সবাই জানি, আজকের এই সেমিনারের মাননীয় প্রধান অতিথি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একজন বর্ষীয়ান নেতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার যে প্রজ্ঞা এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে তার যে মিথষ্ক্রিয়া, সেটা অনুকরণযোগ্য। আমি তার বাকি জীবনের উত্তরোত্তর শুভকামনা করছি।’

এরপর তিনি বলেন,‘প্রধান অতিথি হিসেবে আজকে তার সামনে কথা বলার সুযোগ পেলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে ভবিষ্যতে পাবো কি না, সেজন্য একটু আগে আগে জানিয়ে রাখলাম।’

মন্ত্রীর এই বক্তব্যের শেষ অংশটিই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও জহির উদ্দিন স্বপন কোথাও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেননি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, ১৪ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নয় জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও নির্বাচিত হতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি এক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের পূর্ণ দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন তারেক রহমানের হাতেই রয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা থাকলেও সরকার কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনা দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে। সেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।