,

রপ্তানিপণ্যে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ আইএমএফের

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশ আসে পোশাক রপ্তানি থেকে। সংশ্লিষ্ট অন্য খাত বিবেচনায় নিলে রপ্তানি আয়ে পোশাক খাতের অবদান দাঁড়ায় আরও অনেক বেশি। এক খাতের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতাকে অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি মনে করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিরা। এ কারণে রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ দিয়েছেন তারা। গতকাল রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ তাগিদ দেন তারা। এ ছাড়া একই দিন জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় দাম নির্ধারণ পদ্ধতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন আইএমএফ প্রতিনিধিরা।

গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফ জানায়, রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি কমাতে রপ্তানি বহুমুখী করতে নির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক পদক্ষেপ দরকার। অন্যদিকে খেলাপি ঋণ নিয়ে ফের উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ।

জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ রেকর্ড ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এই খাতের মোট ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। অথচ আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির শুরুতে কথা ছিল অক্টোবর শেষে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকগুলো।

আইএমএফ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে খেলাপি ঋণ কমবে না। এই খাতে সব রকম অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়। অন্যথায় ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। অবশ্য এ নিয়ে ইতোমধ্যে এক ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, রপ্তানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপ-আমেরিকার মতো বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার করণে সেখানে রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ সামলে নিয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে করণীয় নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আশাÑ রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়বে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা জানার চেষ্টা করেছে আইএমএফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানির সুবিধা অব্যাহত রাখতে বিশেষ করে জিএসপি প্লাস পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়টি আলোচনায় তোলে আইএমএফ।

উত্তরণপরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে শুল্ক-সুবিধা বজায় রাখতে নানা ধরনের চুক্তির প্রয়োজন পড়বে। কোন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে কোন ধরনের চুক্তি করতে যাচ্ছে এবং তার আলোচনা ও সম্ভাব্য অগ্রগতি কতটুকু, সেটিও জানতে চায় আইএমএফ।

বৈঠকে সংস্থাটির প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক সংকটে মানুষের ভোগ ও ব্যবহার চাহিদা দুটোই কমতে শুরু করেছে। এটি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে রপ্তানিপণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে। রপ্তানিপণ্যের মানোন্নয়ন করে যাতে ভালো দাম পাওয়া যায়, সে চেষ্টাও করতে হবে।

জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে বৈঠক : গতকাল আইএমএফ প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে বৈঠক করেন জ¦ালানি বিভাগের সচিব নুরুল আলম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি কার্যকর করতে আরও অন্তত চার মাস সময় লাগবে। কারণ বাংলাদেশের অবকাঠামোতে এখনই তা সম্ভব নয়। এখানে কোন পদ্ধতি কার্যকর হবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে; সেকারণে সময় লাগছে।

সূত্র জানিয়েছে, বিপিসি একটি ফর্মুলা প্রস্তুত করে জ্বালানি বিভাগে দিয়েছে। লভ্যাংশ, উন্নয়ন তহবিলসহ কয়েকটি খাত মিলে জ্বালানি তেলে প্রায় ১০ শতাংশ মুনাফা ধরে দাম হিসাব করেছে বিপিসি। তিন মাস অথবা এক মাস পর পর দাম নির্ধারণ করা হবে। প্রস্তাবটি জ্বালানি বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন এই ফর্মুলা কার্যকর করলে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১০-১৫ টাকা বাড়বে। সামনে নির্বাচন তাই সরকার এখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির মতো অজনপ্রিয় কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ছাড়ের শর্ত হিসেবে তারা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্যের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করার কথা বলেছিল।

জ্বালানি সচিব নুরুল আলম বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক আসলে নিয়মিত বৈঠকের মতো। তারা কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে তা তাদের অবহিত করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না

আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

ভেনিস ও টরন্টোর পর এবার লন্ডন উৎসবে বাংলাদেশের এই সিনেমা

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ-জ্বালানি সহায়তা নিয়ে যা বলল ভারত

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ অভিযান