যেভাবে ফাঁস হলো শিক্ষকের ‘যৌন হয়রানি’

news-image

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপার একটি মাদ্রাসায় ৫ ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসায় যেতে অনিহা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিষয়টি জানতে পারেন। অন্যদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। অভিযোগ উঠেছে, তারা সালিস করে বিষয়টি থামিয়ে দিতে চাইছে।

সম্প্রতি শৈলকুপার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের দারুল উলুম নুরানিয়া হাফেজিয়া কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলামের (৪০) বিরুদ্ধে ওই ৫ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ইংরেজির শিক্ষক ও উপজেলার হাটফাজিলপুর গ্রামের আবুল বিশ্বাসের ছেলে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, ভুক্তভোগী ৫ ছাত্রী উপজেলার বোড়ামারা-সাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের বয়স ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক রফিকুল বাথরুমে নিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করত। যৌন হয়রানির মাত্রা বেড়ে গেলে একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর অভিভাবকরা সন্তানদের কাছে জানার চেষ্টা করে, কেন তারা মাদ্রাসায় যেতে চাইছে না। তখন শিশুরা শিক্ষক রফিকুলের যৌন হয়রানির কথা জানায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জের ধরে লোকজন উত্তেজিত হয়ে গত ৯ নভেম্বর রফিকুলের বাড়িতে হামলা করে। এরপর তিন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক ১০ নভেম্বর থানায় গিয়ে অভিযোগ দেয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক ডাকার চেষ্টা করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে এলাকাছাড়া। তবে তার মা বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে শুনে হতবাক হয়েছি।‘ তিনি এ ঘটনা কেন্দ্র করে তাদের বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

এ বিষয়ে দারুল উলুম নুরানিয়া হাফেজিয়া কওমী মাদ্রাসার পরিচালক ইমদাদুল হক জানান, অভিযুক্ত রফিকুল ৭/৮ মাস আগে এই মাদ্রাসায় যোগ দিয়েছেন। এসব ঘটনার কথা তিনি জানতেন না। তবে উভয়পক্ষ নিয়ে বসেও ঘটনাটির কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তিনি।

মাদ্রাসা সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। মাদ্রাসা কমিটির লোকজন বিষয়টি নিয়ে বসেছেন। কিন্ত লোকজন উত্তেজিত থাকায় কোনো সুরাহা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক রফিকুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি আছে। তিনি বাড়ি ফিরলে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের নিয়ে বসে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যৌন হয়রানির ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের অভিভাবকরা থানায় এসেছিল। ঘটনার কথা বললেও তারা কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলসহ এলাকা ঘুরে দেখেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না’, বললেন রাশেদ খান

তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড

৩৫ বছরেই চলে গেলেন গায়িকা নিকোল টেলর

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণায় বদলেছে ম্যাট ডেমনের কাজের ধরন

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৩৩২৪ টাকা

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা আয়োজন

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে কংগ্রেসে পিয়া ডান্ডিয়া

সিনেট হারাল ট্রাম্পের দল, নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান