বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়ার শাহাদাতের পর সুরঞ্জিত সেন সেদিন সংসদে যা বলেছিলেন

news-image

"… ৩০ মে থেকে ৩রা জুন যে লাখ লাখ জনতা শুধু ঢাকা নগরীতেই নয়, গোটা বাংলাদেশে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছে, তার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি (জিয়াউর রহমান) বাংলাদেশের মানুষের কত কাছাকাছি এবং প্রাণপ্রিয় ছিলেন। এটা বলতে যদি কেউ কুণ্ঠাবোধ করেন, এটা তার মানসিক দৈন্য এবং তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব বলে আমি মনে করি। এই যে লাখ লাখ জনতার স্রোত কেন এসেছিল, এই লাশটির পাশে, কেন এসেছিল জানাজায় ও গায়েবি জানাজায়? এসেছিল একটি মাত্র কারণে—সাবেক রাষ্ট্রপতির সততার প্রতি অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা জানাতে। ওই যে কোটি কোটি মানুষের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলে এসেছিলাম এবং যে কথা বলে আমরা বিশ্ববিবেকের সমর্থন পেয়েছিলাম এবং তাকেই আমরা সংবিধানে গৃহীত করেছি।

যেখানে আমরা বলেছিলাম, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা এবং সেই কথাই এই সংবিধানে আমরা রেখেছি। তারই সেই বক্তব্য—সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি মুক্তিযুদ্ধের যে প্রতিশ্রুতি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা যে অঙ্গীকার—আজকে মরহুম জিয়াউর রহমান পালন করে যাননি যদি কেউ বলেন, তাহলে সত্যের অপলাপ হবে। আমি কীভাবে এ পার্লামেন্টে এলাম, কীভাবে আমি এখানে কথা বলছি? এটা সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং বাংলাদেশে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এভাবে চলছে।

রাষ্ট্রপতিকে কখন হত্যা করা হলো? ১৯৮০-তে নয়, ১৯৮১ সালের মে মাসে যখন রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, যখন রাষ্ট্রপতি দৃঢ় প্রত্যয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম ঘোষণা করলেন, যখন শোষণহীন সমাজব্যবস্থার কথা বলতে চাইলেন, দক্ষিণ এশিয়া, পৃথিবীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গেলেন, সিরিয়ায় গেলেন, যখন আর সেই মুহূর্তে তার ওপর আঘাত এলো। সুতরাং আজকে নতুনভাবে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে, এই আক্রমণ কিসের আক্রমণ। কারা এই আক্রমণ করেছে? তাদের উদ্দেশ্য কী? তাদের উদ্দেশ্য যাই হোক, দেশের কোনো মঙ্গল কামনা নয়, মানুষের মঙ্গল কামনা নয়, একটা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই এই হত্যা। হত্যা করা হয়েছিল একটা স্টাবলিশমেন্টকে নষ্ট করার জন্য, স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার জন্য। স্থিতিশীলতা নষ্ট করে কারা লাভবান হয় — লাভবান হয় প্রতিক্রিয়াশীল চক্র, লাভবান হয় সাম্প্রদায়িক শক্তি, লাভবান হয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলার জনগণ, দুঃখী মানুষরা, দেশের আপামর জনগণ। যে গণতন্ত্রকে মূল্যায়নের জন্য মরুহম রাষ্ট্রপতির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, লাখ লাখ মানুষের আশা-ভরসা, তা আপনার (স্পিকারের) শোক প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়েছে।"

– গণতন্ত্রী পার্টির সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (সিলেট-২) সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবে তার দল ও নিজের পক্ষ থেকে / ৩ জুন ১৯৮১

monitorbd.net

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা