,

বাঞ্ছারামপুর রুপসদী খানেপাড়া জমিদার বাড়িতে বাজেনা নহবত, বসে না বৈশাখী মেলা

news-image

এম এ আউয়াল : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের শতবর্ষের জমিদার বাড়িটি এখন ধ্বংস হতে বসেছে । ১৯১৫ সালে ভারত থেকে নকসা ও রাজমিস্ত্রী এনে তীর্থবাসী চন্দ্র রায় ৫ একর জমির উপর এই অট্রালিকা নির্মাণ করেন । এ বাড়িতে ৩ টি পুকুর ছিল । বড় বড় মাছ ছিল এসব পুকুরে। পুকুর দেখাশুনা করার জন্য ২০ জন লোক কাজ করতো । এক সময় বিরাট বৈশাখী মেলা বসতো এই জমিদার বাড়িতে । উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোক বৈশাখী উৎসব উদযাপন করার জন্য এই জমিদার বাড়িতে ভিড় জমাতো । প্রতি বছর মাসে হতো কীর্তন নামযষ্ণসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্টান । একটি বড় পুজামন্ডপ ছিল পূর্ব দিকে । সার্বক্ষনিক ভাবে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকতো এ জমিদার বাড়িতে। তখনকার আমলের যারা এখনো বেঁচে আছে তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে ,কোন মুসলমান,লোক ছাতি মাথায় বা জুতা পায়ে দিয়ে এ জমিদার বাড়ি দিয়ে হেটে যেতে পারতো না। এ কারনেই জমিদার তীথবার্সী চন্দ্র রায় বহু চিন্তা ভাবনা করে ৫ একর জমির উপর রুপসদী গ্রামের সর্বশেষ পূর্ব পার্শ্বে নির্মাণ করেন এই অট্রালিকা।এখানে বসে খাজনা আদায় করা হতো । জমিদার তীথবার্সী চন্দ্র রায় রাজকীয় ভঙ্গিতে ঘোড়া চড়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়ত করতেন । তার ছেলে মহিষ চন্দ্র রায় এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯১৫ সালে সাড়ে চার একর জমির উপর নির্মান করেন রুপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় । একই সালে তার পিতা তীর্থবাসীর স্মৃতি রক্ষায় নির্মাণ করা হয় একটি বিরাট মঠ। জমিদার বাড়িতে এখন আর পূজা হয়না , কীর্তনের আসর বসেনা ,হয় না বৈশাখী মেলা,নহবতের সুর আর বাতাস মাতিয়ে তোলেনা।জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে জৌলুস হারাতে থাকে জমিদার বাড়ি।কালের পরিবর্তনে জমিদার বাড়িটি এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত । সন্ধ্যার পর ফুর্তি -আমোদ করার জন্য বাড়ির পূর্ব পার্শ্বে নির্মান করা হয়েছিল একটি নাচন ভবন। সুষ্ঠ রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে তাও ভেঙ্গে গেছে । জমিদার বাড়িতে কোন বয়স্ক লোক না থাকলে ও যতটুকু সম্ভব এলাকার মুরব্বীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে,বৃন্দাবন রায়ের ছিল ২ছেলে,তীর্থবাসী রায় ও নদীয়াবাসী রায় । তীর্থবাসী রায়ের ছিল ১ ছেলে মহিমচন্দ্র রায় । তারা মারা যাওয়ার পর মহিমচন্দ্র রায়ের ছেলে চিত্তরঞ্জন রায় জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারেনি । জমিদার ভবনের দরজা,জানালা ভেঙ্গে গেছে ,ভবনের বিভিন্ন স্থানে আগাছা হয়ে সৌন্দর্য় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।বর্তমানে সংস্কারের অভাবে বাড়িটির প্লাষ্টার ধ্বসে যাচ্ছে।পুজা মন্ডবের ছাদ ভেঙ্গে গেছে দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হিসেবে । যারা উত্তরসূরী হিসেবে বেঁচে আছেন তাদের অনেকেই এখানে থাকেনা । বাঁচার তাগিদে উপার্জন করার উদ্দেশ্যে কেউ চলে গেছেন শহরে কেউ চলে গেছে ভারতে। রোজা,কোরবানী ইদ অথবা হিন্দুদের বাৎসরিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শহর থেকে লোকজন দেশের বাড়িতে আসলে এখনো পুরাতন জমিদার বাড়িটি দেখতে রুপসদী গ্রামে চলে যান,সেখাসে এখনো দক্ষিনা বাতসে শরীর জুড়ায় ।বয়স্ক লোকেদের চলে আসার সময় শুধু জমিদার বাড়িটির দিকে তাকিয়ে এটুকু বলে কি ছিল কি হলো । জমিদার বাড়ির কিছু অংশ বিক্রী করে দেয়া হয়েছে বলে আশে পাশের  লোকজন জানান ।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা