বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে চলছে টিকেট কালোবাজারি ! 

news-image
তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ট্রেন আসে ট্রেন যাই যাত্রী ভরপোর থাকে স্টেশন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে  ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটের পথে আন্ত:নগর ট্রেনের  শতকরা ৭০ জন যাত্রী সিট বিহিন স্ট্রেন্ডি  টিকেট কেটে গন্তব্যের পথে  যাতায়ত করতে হয়। এমনিতে যাএীর তুলনায় আসন সংখ্যা কমিয়ে টিকেট দেওয়া হয়েছে অর্ধেক মত, আবার যতটুকু টিকেট আছে তাও চলে যায় অসাধু পথে। এযেন মরার উপর ক্ষরার গাঁ মত।  তাহলে এখানে প্রশ্ন আসে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীদের জন্য  ৮৫০ টি মত  টিকেট বরাদ্দ থাকে তাহলে যাএার তারিখে ৮/১০দিনের আগ থেকে  কাদের  সহযোগীতায় টিকেট কাউন্টারের কম্পিউটারে থাকা টিকেট গুলো কালো বাজারীর হাতে চলে যায়।
সরজমিনে ঘুরে ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা- চট্টগ্রাম ও সিলেট যাওয়ার  আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতি ,চট্টলা, জয়ন্তিকা, মহানগর গোধূলী, নিশিথাসহ এসব ট্রেনের  টিকেট ৫/৬ দিন আগে খোঁজ করেও কাউটারে টিকেট পাওয়া যায়না। আবার উল্টোদিকে বাস্তব অবস্হা অন্যরকম।  কাউন্টারসহ স্টেশনের ভিতরে দিনরাতে চালু থাকা  সিসি ক্যামেরার চলমান অবস্থায় মর্ধ্য দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকেট কালো বাজারীরা প্রতিটি আন্ত:নগর ট্রেনের নির্দিষ্ট  সময়ের একঘন্টা আগে থেকে প্রায় শতাধিক টিকেট হাতের মুঠোয় নিয়ে কয়েকদলে বিভক্ত হয়ে অনেকটা বীরদর্পে তিনগুন বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করেন। দেখা যায় ৭৫ টাকার টিকেট ২০০টাকা আর ১৪৫ টাকার টিকেট ২৫০/৩০০টাকা। আবার সুযোগ আর  ক্ষেএ বিশেষে তা তিন’শত টাকায় উপরে বিক্রি করা হয় পরিস্হিতির শিকার অসহায় যাএীদের কাছে।
স্টেশন থাকা বিভিন্ন সুত্রে বেরিয়ে আসে টিকেট বিলির সে অজানা তর্থ্য, আর এই মোতাবেক ব্রাহ্মনবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আন্ত:নগর ট্রেনের বরাদ্দকৃত ৮৫০ টি মত টিকেটের  মধ্যে গড়ে প্রতিদিন   ৫০০টি টিকেট চলে যাচ্ছে  ষ্ট্রেশনমাষ্টার সিন্ডিকেট, জিআরপিসহ টিকেট বাজারিদের হাতে। সে হিসেবে স্টেশন মাস্টার সহ তার কর্মচারীদের  নামে কাউন্টার থেকে আসে প্রতিদিন  ৮৫টি  মত টিকেট । আর  স্টেশনের নিরাপওার কাজে নিয়োজিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে জিআরপি পুলিশের নামে ভাগে আসে প্রতিদিন  ১০০টি টিকেট, আর প্রকাশ্যে যারা কাউন্টারের সামনে সিসি ক্যামেরা নজরদারিতে হাতের মুঠ ভরা  টিকেট  বিক্রি করেন সে টিকেট কালো বাজারীর নামে ভাগ ভাটোয়ার টিকেট আসে প্রায় ৩০০টির মত। সব মিলিয়ে সিন্ডিকেট ভিওিক রেলে যাতায়ত কারি যাএীদের শতকারা ৭০% টিকেট চলে আসছে তাদের  হাতের মুঠোয়। কালোবাজারিদের হাতে আসা  টিকেটের তর্থ্য মোতাবেক মূল নিয়ন্ত্রণ কারি
 নামে প্রতিদিন আসে ২০০টির মত টিকেট।   অন্যান্য বিক্রেতাদের হাতে যাচ্ছে (২০+৩০+৪০) মিলিয়ে প্রায় সবমিলিয়ে ১০০টি টিকেটের মত।
২০০টি টিকেট যে বিক্রি করেন তাকে প্রতি সপ্তাহে জিআরপি কে  দিতে হয় পনের হাজার টাকার মত।আর খুচরা বিক্রেতাদের কে দিতে হয় প্রতিসপ্তাহে সবাই মিলে দশ হাজার টাকার মত। সব মিলিয়ে টিকেট কালোবাজারিদের হাত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া  রেলওয়ে জিআরপি পুলিশের কাছে  সপ্তাহে গড়ে যায়  পঁচিশ হাজার টাকার মত। মাসে পাচ্ছেন তারা  সোয়া লাখ টাকার উপরে।
অন্যদিকে জিআরপি নামে বরাদ্দকৃত ১০০টি টিকেট বিক্রির দায়িত্ব থাকে  স্টেশনের টিকেট কালোবাজারির মূলহোতার কাছে। সে তার সিন্ডিকেটের মার্ধ্যমে এসব টিকেট যাএীদের কাছে বিক্রি করেন। আর স্টেশনমাস্টারসহ তাদের অন্য কর্মচারির নামে বরাদ্দকৃত প্রায়  ৮৫ টি বিক্রি করেন স্টেশনের মাল উঠানামার কাজে নিয়োজিত কুলিসহ টিকেট কালোবাজারির হাত দিয়ে।
কথা হয় বেশ কয়েকজন যাএীর সাথে তারা বলেন, একদিকে সরকার ট্রেনের সেবারমান বৃদ্ধির জন্য  শত শত কোটি টাকা খরচ করে নতুন নতুন লাইনের কাজ করছেন অন্যদিকে  আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে সেবার নামে সারাক্ষণ চলছে জালিয়াতি। স্টেশনের পাঁচ/ ছয় দিন আগে এসেও কাউন্টার থেকে কোন টিকেট পাওয়া যায়না। স্টেশনের  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব জিআরপি পুলিশের। সে জায়গার সিসি ক্যামেরা চলমান থাকার ফলে কিভাবে প্রতিটি আন্ত:নগর ট্রেনের সময় কাউন্টারে সামনে   টিকেট  কালোবাজারিরা তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে টিকেট বিক্রি করে আমরা তা বুঝিনা। জিআরপি পুলিশের এখানের কর্তার  সিসি ক্যামেরা সমস্ত কিছুইতো তার চেয়ারে বসে দেখছে। তাদের  মদদেই চলছে স্টেশনে টিকেট কালোবাজারি। তাদের নীরব ভূমিকা পকেট ভারীর কৌশল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. সানাউল ইসলাম জানান, সিসি ক্যামেরা সব-সময় চালু থাকে। স্টেশনের টিকেট  কালোবাজারি কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ার বিষয়টি এটা ঠিক না। তবে কেউ বললে আমরা টিকেট এনে দেয়।
এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল ক্লান্তি দাস জানান, আমি নিজেই অভিযানে যাব। কাউন্টারে সামনে সিসি ক্যামেরা চালু অবস্হায় কিভাবে কালোবাজারি টিকেট বিক্রি করে বিষয়টি নিয়ে সানাউলের সাথে কথা বলেছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার কামরুল হাসান তালুকদার বলেন,আমরা সারা দিনে সব মিলিয়ে চল্লিশটা টিকেট  পায়, এর বেশি যেটা বলেছেন সেটা ঠিক নয়।  টিকেট কালোবাজারি বিভিন্ন কৌশলে টিকেটটা কাউন্টার থেকে নিয়ে যায়।এরা সারাদিন জিআরপি সামনে  খোলামেলা টিকেট বিক্রি করে তারাতো দেখেই। সিসি ক্যামেরা সারাক্ষণ চালু থাকে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে