বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা-ক্ষুধায় আমার শরীর কাঁপছে

news-image

ফয়সল আহমেদ খান,বাঞ্ছারামপুর থেকে : ‘‘সকালে আমার সন্তান গেছে স্কুলের অনুষ্ঠানে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে এখনো বাড়ি ফিওে আসেনি,এই আশংকায় ছুটে যাই বহু দূরের জগন্নাথপুর মাঠে।গিয়ে দেখি সন্ধ্যা বেলায়ও অনুষ্ঠান চলছে।আমার ৪র্থ শ্রেনীর পড়–য়া ছেলের মুখ দেখি ক্ষুধায় শুকিয়ে আছে।জিজ্ঞাসা কওে জানি,সকাল ৯টায় বাড়ি হতে বের হবার পর এখ নপর্যন্ত সে কিছুই খায়নি।সে কেদে কেটে বলল বাবা-ক্ষধায় আমার শরীর কাপঁছে।আমাকে কিছু কিনে দাও।স্যাররা আমাদেও কিছুই খেতে দেয়নি।’–এমনি করে অভিযোগ করেন দড়ি বাঞ্ছারামপুরের ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো.মোশাররফ হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বার্ষিক আন্ত:স্কুল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

সকাল ১০টা হতে শুরু হওয়া সদর উপজেলার জগন্নাথপুর মাঠে খুবই নি¤œমানের প্যান্ডেল থেকে শুরু করে শিশু প্রতিযোগীদের দিনভর কোন কিছুই না খাইয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে খোজ নিয়ে জানা গেছে,এই ইভেন্টটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো থানা কলোনীর প্রধান শিক্ষক আ.অহিদ মিয়াকে।কিন্তু তিনিসহ তার সহকর্মীরা দিনভর শীতের মধ্যে নাস্তা-পানি থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার খেলেও কোমলমতি শতাধিক প্রথম শ্রেণী হতে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ৮ ঘন্টা মানে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত না খাইয়ে বা কোন প্রকার দেখভাল না করে রাখেন।

এবিষয়ে কথা বললে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৌশাদ মাহমুদ বলেন,-‘আজ যেটা ঘটেছে সেটা ঠিক হয়নি।তবে-আমাদের একটি টাকাও দেয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে।শিক্ষকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে এই প্রতিযোগিতা সফল করেন’।

কিছুক্ষণ পর মোবাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বনিকের সাথে অভিযোগ নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন,এটা ঠিক নয়।প্রতিটি স্কুলের জন্য ১ হাজার টাকা বাজেট দেয়া হয়েছে।সেই অনুযায়ী অংশগ্রহনকারী ১২টি স্কুলের জন্য ১২ হাজার টাকা দেয়া হয়।শিশুদের দিনভর কিছুই না খাইয়ে রাখাটা অমানবিক।আমি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।’

বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ছবুরকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বাঞ্ছারামপুর কান্দা পাড়া,সরিষারচর,থানা কলোনী,দূর্গারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মো.আলমগীর হোসেন,মহিউদ্দিন ভূইয়া,আল আমীন মেম্বার,ফয়সল খান,নুরুল ইসলাম আকাশ অভিযোগ কওে বলেন,যেখানে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে তা স্কুল ও বাসা হতে অনেক দূরে।দুপুরে যখন শিক্ষকরা বিরতিতে খাবার খান,তখন শিক্ষার্থী তথা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীদের কারো পক্ষে ২ হতে ৪ কি:মি: দূরে যেয়ে খেয়ে আসা সম্ভব হয়নি।কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপোস করে থাকে।আমরা এর প্রতিবাদ করছি।সরকারি বরাদ্ধ থাকা সত্বেও কেন একটি কলা কিনে খাওয়ালো না শিক্ষকরা-এর তদন্ত দাবী করছি’’।
বাঞ্ছারামপুরে আন্ত:স্কুল প্রতিযোগিতা সামনের দিনে জগন্নাথপুরে না করে বাঞ্ছারামপুর সদরে করার দাবী করেন অভিভাবকরা।

একটি সূত্রে জানায়,অহিদ মিয়ার মতো কয়েক শিক্ষক মিলে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বাজেটের যতসামান্য ২/৩ হাজার টাকার কম মূল্যের পুরস্কার দিয়ে বাকী টাকা নিজের মনে করে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেন!

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা