সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমাহিলের বাসায় এখন কেবলই শূন্যতা

news-image

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চশমাহিলের যে বাড়িতে মহিউদ্দিন চৌধুরী থাকতেন তাতে প্রবেশের ডান পাশেই আছে বিশাল এক ড্রইংরুম। স্বাধীনতা যুদ্ধকেন্দ্রিক বেশকিছু বই আছে এখানে। আছে টানা তিনবার মেয়র পদে বিজয়ী হওয়ার ছবি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও। একেবারে শেষ প্রান্তে আছে একটি চেয়ার। সেটার দু’পাশে আছে আরও অন্তত ২০-৩০ জন মানুষ বসার ব্যবস্থা। কাঠের এ চেয়ারটিতে বসেই চট্টগ্রামের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। চেয়ারটি এখনও আছে, নেই শুধু মহিউদ্দিন চৌধুরী। নিথর হয়ে আছে সেই ড্রইংরুম। শূন্যতা বিরাজ করছে প্রতিটি কক্ষে।

দারুল ফজল মার্কেটে হচ্ছে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমাহিলের বাসভবনটিও নেতাকর্মীদের কাছে ছিল দলীয় কার্যালয়ের মতো। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার পর চার-পাঁচ বছর ধরে দলীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি চশমাহিলের বাড়িটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতেন চট্টলবীর। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকায় চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতি চলত তার ইশারায়। এ কারণে এ বাড়ি নেতাকর্মীদের পদচারণায় সরগরম থাকত পুরো দিনই। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর এখন সেই বাড়িতে এখন ধুধু শূন্যতা।

বাড়ির চারপাশ ছেয়ে গেছে নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শোক ব্যানারে। মেয়র গলি থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায়ও শোভা পাচ্ছে শোকাহত মানুষের আকুতি। কেউ লিখেছেন- ‘হে চট্টলবীর, তোমার বিদায়ে আজ আমরা এতিম হলাম।’ কারও অভিব্যক্তি ছিল এমন- ‘তোমার অবর্তমানে কে আর অমন করে ভাববে চট্টগ্রাম নিয়ে।’ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন তার ব্যানারে মহিউদ্দিনকে অভিহিত করেছেন- ‘বীর চট্টলার অভিভাবক।’ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম উল্লেখ করেছেন- চট্টলবীর।

ড্রইংরুমে নীরবতা থাকলেও চশমাহিলের বাসভবনে নেতাকর্মীর ভিড় দেখা গেছে শনিবারও। কেউ সান্ত্বনা দিতে, কেউ সান্ত্বনা পেতে দেখে এসেছেন একবার প্রিয়নেতার বাসভবন। আগন্তুকদের অধিকাংশই তাদের মন্তব্য লিখে রেখেছেন শোক বইয়ে, অঝোরে কাঁদতেও দেখা গেছে কাউকে কাউকে- অশ্রু তুলে ধরে রাখছেন যেন শব্দের গাঁথুনিতে। শোক বইয়ে হালিশহর থেকে আসা ইমরান আহমেদ নামের এক যুবক লিখেছেন- ‘জানি না তোমার শূন্যতা পূরণ করতে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।’ শরীফুল ইসলাম নামের আরেক যুবক লিখেছেন- ‘কষ্ট পেলে আপনার কাছে এসে বলতাম তা। কখনও মাথায় হাত বুলিয়ে, কখনও ইশারা দিয়ে সান্ত্বনা দিতেন আপনি। এখন কষ্ট পেলে কার কাছে ছুটে যাবো হে নেতা।’

শুধু চশমাহিলের বাসভবন নয়; মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও চলছে শোকের মাতম। অনেকে প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটোতে ব্যবহার করছেন তার ছবি। শোকের মাত্রা বোঝাতে কেউ কেউ তাদের প্রোফাইল পিকচার পুরোপুরি কালো করে দিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি তার ফেসবুক ওয়ালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সম্পর্কে লিখেছেন, ‘পত্রিকা আর ফেসবুকের লেখাগুলো পড়তে গেলে চোখ ভিজে যাচ্ছে। আল্লাহ শক্তি দাও।’ রনি তার প্রোফাইল পিকচারে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে একটি ছবি দিয়ে লিখে রেখেছেন- এতিম।

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা