,

শুল্ক চুক্তি থেকে পিছু হটবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের প্রতিনিধি

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে যেসব দেশের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করেছে, সেখান থেকে পিছু হটবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, সুইজারল্যান্ডসহ প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে গত নয় মাসে যে সমঝোতা হয়েছে, নতুন ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক তার বাইরে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই রায়ের পর হোয়াইট হাউজ জানায়, এখন থেকে ওই শুল্ক আর সংগ্রহ করা হবে না।

কিন্তু আদালতের রায়ে দমে না গিয়ে দ্রুতই পাল্টা পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’-এর ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা পরে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেন।

গ্রিয়ার বলেন, নতুন এই শুল্ক আগের চুক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তার কথায়, ‘আমরা চাই অংশীদাররা বুঝুক—এগুলো ভালো চুক্তি। আমরা এগুলো বজায় রাখবো এবং তাদের কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করি।’

নতুন শুল্কের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত?
ট্রাম্পের দাবি, তার নতুন শুল্কারোপের পথ আগের চেয়েও ‘শক্তিশালী’। কিন্তু আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ১২২ ধারার পথেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা করছে পাহাড় সমান বাধা। ফলে তার নতুন শুল্কনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ট্রাম্প মনে করছেন, এই ধারায় তিনি আগের মতোই একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবেন। কিন্তু মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিতে জল ঢেলে দিয়েছেন। এই ধারার প্রধান তিনটি সীমাবদ্ধতা হলো:

শুল্কের সীমা ও সময়কাল: ১২২ ধারার অধীনে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন এবং তা কেবল ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকে। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর শুল্ক কার্যকর রাখতে হলে কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
কঠোর শর্তাবলী: এই ধারাটি ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা লেনদেনে বড় ধরনের ঘাটতি থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়। নিছক রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহার করা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
কংগ্রেসের ক্ষমতা: বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের দলের সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আধিক্য রয়েছে। তাছাড়া, রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে। ফলে ১৫০ দিন পর কংগ্রেসে ট্রাম্পের শুল্কের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের ক্ষেত্রে এখন মার্কিন কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, যা আগে ছিল না। ফলে ব্যবসায়িক লবিংয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল ইকোনমির যুক্তরাজ্য ট্রেড পলিসি প্রজেক্টের পরিচালক ডেভিড হেনিগ বলেন, “এই প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি স্থায়ী হবে, এমন প্রত্যাশা করা কঠিন। ফলে সব সরকারই এখন পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

সাদপন্থিদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের কোনো অধিকার নেই: হেফাজত আমির

হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু

এনআইডি সংশোধনে বড় অগ্রগতি

ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু

আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির গণবিক্ষোভ শুক্রবার

দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: জামায়াত আমির

আসিফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, সন্দেহ সিএনজি থেকে

বিক্ষোভ মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করলো ফ্রান্স

শ্রদ্ধার কারণে গায়কিতে বদল আনেন শ্রেয়া

গাজীপুরে কারখানার গোডাউনে আগুন, সাড়ে পরে নিয়ন্ত্রণে

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬