,

অলৌকিক ইচ্ছা পূরণ, একই দিনে মৃত্যু হলো স্বামী-স্ত্রীর

news-image

রংপুর প্রতিনিধি : স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জীবদ্দশায় কামনা করতেন একইসঙ্গে যেন তারা মৃত্যুবরণ করেন। অলৌকিকভাবে তাদের এই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। একই দিনে ওই দম্পতির মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে।

স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বেঁচে থাকতে সব সময় কামনা করতেন একসঙ্গেই যেন তাদের মৃত্যু হয়। তারা মরণেও পাশাপাশি কবরে থাকতে চেয়েছিলেন। অবশেষে অলৌকিকভাবে তাদের সেই ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে। একই দিনে পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন ওই দম্পতি।

তারা হলেন- রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ইন্দিরাপাড়া গ্রামের আজগার আলী (৮০) ও তার স্ত্রী তহিদা খাতুন (৭২)।

প্রায় পাঁচ যুগের সংসার তাদের। দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের কমতি ছিল না। তাদের নিজেদের মধ্যে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ বোঝাপড়া ছিল। মনোমালিন্য হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি কখনো। দীর্ঘ সংসারজীবনে অনুকূল-প্রতিকূল পরিস্থিতি সব কিছুই তারা সামাল দিয়েছেন একসঙ্গে। কখনো পরস্পরকে ছেড়ে থাকতেন না তারা। জীবদ্দশায় তাদের দুজনের মাঝে কোনো অভিযোগ-অনুযোগ ছিল না।

একসঙ্গে যেন মৃত্যু হয় সৃষ্টিকর্তার কাছে এমন পবিত্র চাওয়া ছিল দুজনেরই। তাদের সেই ইচ্ছাই যেন পূরণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে আজগার আলী এবং একই দিন রাত ৮টার দিকে তার স্ত্রী তহিদা খাতুন ইন্তেকাল করেন।

আজগার আলীর ভাতিজা নুরু মিয়া জানান, রোজা শেষে বুধবার দিবাগত রাতের খাবার একসঙ্গে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ওই দম্পতি। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন তহিদা খাতুন। এ সময় ডাকাডাকি করেও স্বামীর সাড়া পাননি। তার কান্না শুনে বাড়ির আসেন এর পর দেখতে পান আজগর আলী মারা গেছেন।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, আজগার আলী ছিলেন গ্রামের সাদাসিধে ঘরের একজন কৃষক পরিবার। তিনি কিছুদিন ধরে কাশি ও অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু স্ত্রী তহিদা খাতুনের তেমন কোনো রোগ ছিল না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল হক জানান, আজগার আলীর মৃত্যুর পর থেকে স্ত্রী তহিদা খাতুন শোকার্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর জানাজা শেষে বাড়ির পাশেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় আজগর আলীকে। জানাজা ও দাফনকার্যে অংশগ্রহণকারী স্বজনদের অনেকটা শক্ত মনে বিদায় দেন তহিদা খাতুন।

স্বামীর মৃত্যুতে তিনি শোকাত হয়েছিল তা কাউকে কিছু বুঝতে না দিলেও এই শোক তাকে খুব কাতর করে তুলেছিল। তাই সেই শোকে তিনি রাত ৮টার দিকে বাড়িতে হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক মারা যান তহিদা খাতুন। পরে মধ্যরাতে জানাজা শেষে স্বামীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

ওই দম্পতির সন্তান লাভলু মিয়া বলেন, আমার বাবা-মায়ের মধ্যে যে সুন্দর সম্পর্ক ও ভালোবাসা ছিল তা এ সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায় না। জীবদ্দশায় বাবা-মা সব সময় কামনা করতেন একসঙ্গে মৃত্যুবরণের। আল্লাহ তাদের সেই মনোবাসনা পূর্ণ করেছেন।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা (বিট কর্মকর্তা) বদরগঞ্জ থানার এসআই মাসুদ আলম বলেন, ঘটনাটি বিস্ময়কর। স্বামী-স্ত্রীর একই দিনে স্বাভাবিক মৃত্যু তেমন দেখা যায় না।

 

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট