,

‘মালয়েশিয়ান নারীদের বিয়ে করলে বিতাড়িত করা হবে’

news-image

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ বলেছেন, বিদেশি শ্রমিকরা মালয় নারীদের বিয়ে করলে তাদের বিতাড়িত করা হবে। মালয়েশিয়ায় পিএলকেএসধারী (অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট) বিদেশি কর্মীদের স্থানীয় নাগরিকদের (নারীদের) বিয়ে করা ইমিগ্রেশন আইনে নিষিদ্ধ। এই আইন না মানলে ওয়ার্ক পারমিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৬/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫) অনুযায়ী মালেশিয়া থেকে বের করে দেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র বেরিতা হারিয়ানে এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গ করে কোনো পিএলকেএসধারী (শ্রমিক ভিসা) যদি স্থানীয় কোনো নারীকে বিয়ে করে তাহলে বিচ্ছেদ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

দেখা গেছে, বিদেশি কর্মীরা বিয়ে করে এবং একটা সময় পর মালয়েশিয়ায় স্ত্রী সন্তানদের রেখে নিজ দেশে ফিরে যায়। তখন এই স্ত্রী, সন্তানদের দেখার কেউ থাকে না।

দেশটির একটি এনজিওর তথ্যমতে, এ কারণে মালয়েশিয়ায় সিঙ্গেল মাদারের সংখ্যা বেড়েছে, যা সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।

পিএলকেস হলো মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে কাজ করতে আসা বিদেশি শ্রমিকদের একটি ওয়ার্ক পারমিট, যা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১ থেকে ১০ বছরের জন্য সাতটি সেক্টরে দেওয়া হয়।

মুসলিম দম্পতির বিয়ে বৈধ হবে যদি বিয়ের আইনি শর্তগুলো পূরণ করা হয় এবং বিবাহবিচ্ছেদ শুধু তখনই ঘটবে যখন তালাকের আবেদন শরিয়া আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

অমুসলিম দম্পতিদের ক্ষেত্রে, সিভিল হাইকোর্টের মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন ও বাতিল করতে হয়। পিএলকেসধারী যারা মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বা কর্মরত তারা যদি মালেশিয়ায় স্থানীয় এমন কাউকে বিয়ে করতে চান, তবে তাদের আবেদন দূতাবাসে পাঠাতে হবে।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক রুসলিন জুসোহ বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে পিএলকেএসধারীদের বিয়ের বিষয়ে রাজ্যের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলেচনা করা হবে।

বিদেশির সঙ্গে স্থানীয়ের বিয়ের জন্য একটি নির্দেশিকা ও স্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারের অধীনে এই বিয়ে সংক্রান্ত নির্ধারিত আইন লঙ্ঘন করলে ইমিগ্রেশন বিভাগ ব্যবস্থা নিতে পারে।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক বলেন, অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কারো সঙ্গে বিদেশি, বিশেষ করে পিএলকেএস হোল্ডারদের বিয়ে সংক্রান্ত ইমিগ্রেশনের কঠোর শর্ত ও বিধিবিধান না মেনে সেগুলো উপেক্ষা করা হয়।

আইন না মেনে বিয়ে হলে অভিবাসন আইন অনুযায়ী অবিলম্বে প্রদত্ত পারমিট বাতিল করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি, বেরিতা হারিয়ানে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি পুরুষরা, বিশেষ করে পাকিস্তানিরা মালেশিয়ায় থাকার জন্য এবং ব্যবসা করার জন্য আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় মালয় নারীদের বিয়ে করে। একটি ঘটনায় দেখা গেছে, এক পাকিস্তানি নাগরিক একজন বয়স্ক মালয়েশিয়ান নারীকে বিয়ে করেছেন এবং তিনি স্ত্রীর নামে ব্যবসা করেছেন।

গত বছর কেলান্টান ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর আজহার আব্দুল হামিদ জানান, মালয়েশিয়ান স্ত্রীদের নাম ব্যবহার করে ব্যবসার অন্য আবেদন করা বিদেশিদের ১৫টি আবেদন বাতিল করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেরিতা হারিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় নারীদের বিয়ে করা পাকিস্তানি পুরুষদের একটি কৌশল। এর মাধ্যমে তারা ব্যবসা পরিচালনার জন্য শহরের উপকন্ঠে অবস্থান করে। যেখানে কর্তৃপক্ষের নজরদারি খুব কম।

রুসলিন বলেছেন, বিদেশি যারা স্থানীয় নাগরিকদের বিয়ে করতে চান তাদের নিয়োগকর্তার তথ্যসহ একটি বিশেষ ফরম পূরণ করতে হবে। তা না হলে ওই বিয়ে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত হবে।

পরিচালক বলেন, বৈধভাবে মালয়েশিযায় বিদেশি শ্রমিলে ১০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানা বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ছয়টি বেত্রাঘাত দণ্ড হতে পারে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট