,

কিডনি দানের সম্মতিপত্রে যা লিখেছিলেন সারার মা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র ২০ বছর বয়সে দুরারোগ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সারা ইসলাম। অবশ্য মৃত্যুর আগে সারা তার পুরো দেহটাই দান করে দিতে বলেছিলেন তার মাকে। বর্তমানে তার দেহের কিডনি ও কর্নিয়া চারজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তার দুটি কিডনি দুই নারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, আর কর্নিয়া দুটি দুই পুরুষের চোখে। তাদের চারজনই ভালো আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মেয়ে হারানোর শোক নিয়েও সারা ইসলামের মা শবনম সুলতানা সম্মতি দিয়েছিলেন তার মেয়ের দুটি কিডনি ও চোখের কর্নিয়া দান করার বিষয়ে। এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি সম্মতিপত্র লিখেছেন তিনি। সে সম্মতিপত্রে তিনি লিখেছেন।

আমি সারা ইসলামের মা শবনম মুলতানা এই মর্মে প্রত্যয়ন করতেছি যে, আমার মেয়ে সারা ইসলাম (২০), (multiple tubular Sclerosis) রোগের অপারেশেন পরবর্তী জটিলতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করানো হয়। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে, গত ১৮ তারিখে ডাক্তারেরা তাকে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন। এমতাঅবস্থায় আমি স্বেচ্ছায় প্রনোদিত হয়ে আমার মেয়ের দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া দান করিতে সম্মতি দান করছি। ইহাতে কোন প্রকার ভয় ভীতি বা আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়নি। এই অস্ত্রপ্রচার এবং কিডনি ও কর্নিয়া দান সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা, জটিলতা হলে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সদস্য, অধ্যাপক, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারী দায়ী থাকবে না।’

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে কিডনি অপারেশন থিয়েটারে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সার্বিক নির্দেশনায় এ কিডনি ও চোখের কর্নিয়া দান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সারাহ ইসলামের একটি কিডনি দেওয়া হয় মিরপুরের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে। ওই গৃহবধূর কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজটি হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। তার চিকিৎসা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকে। আজ শুক্রবার সকালে ওই ব্যবসায়ী জানান, তার স্ত্রী ভালো আছেন।

সারাহ ইসলামের অন্য কিডনিটি প্রতিস্থাপন করা হয় রাজধানীর মিরপুরের বেসরকারি কিডনি ফাউন্ডেশনে। হাসপাতালের প্রধান ও দেশের বিশিষ্ট কিডনি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন–অর–রশীদ জানান, ওই নারী ভালো আছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সারাহর দুটি কর্নিয়া দুই পুরুষের চোখে লাগানো হয়। একটি বিএসএমএমইউতে এবং অন্যটি সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে। তারাও ভালো আছেন।
এই জটিল অস্ত্রোপচারে একাধিক চিকিৎসকদল কাজ করেছিল। তাদের কাজের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিএসএমএমইউয়ের আইসিইউ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্নিয়া দেওয়া দুই ব্যক্তিও সুস্থ আছেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে ১৭২ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

যানজট কমাতে নবীনগরে বিকল্প সড়ক, উদ্বোধন করলেন এমপি আব্দুল মান্নান

নবীনগরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

নবীনগরে ইব্রাহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোছা গ্রেপ্তার

উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

৪০ ঘণ্টা পর আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তর

ক্যাটরিনার বাড়িতে রণবীর, সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের ৭ দিনের কর্মসূচি

ঢাকায় মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির আভাস

ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১২৯