,

কলাগাঁও ছড়া থেকে দিন-রাত অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ

news-image

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সরকারি নির্দেশ ভঙ্গ করে কলাগাঁও ছড়া দিন-রাত অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন ও বিক্রি করছে একটি চক্র। ফলে কলাগাঁও ছড়া সংলগ্ন মসজিদ, শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে পড়েছে।এতে করে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কলাগাঁও ছড়াটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

জানা যায়, ৫০ বছর ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে ওপার থেকে ভেসে আসা বালিতে নয়াছড়া, বড়ছড়া, লাকমা, চারাগাঁও, বুরুঙ্গাছড়া, বাঁশতলা ও কলাগাঁও ছড়াসহ মোট সাতটি ছড়াতে নেমে আসে। এসব ছড়া উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার অবস্থিত।

গত ২১ মে শনিবার তাহিরপুরে উপজেলা প্রশাসন থেকে জেলা বালি মহাল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক, উপজেলা প্রশাসন (২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা) উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে উন্মুক্ত নিলাম দেন। ৮০ পয়সা প্রতি ফুট হিসাবে নিলাম পায় কদ্দুস মিয়া। এরপর থেকে শুধুমাত্র কলাগাঁও ছড়া থেকে দিন-রাত অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে ছড়া সংলগ্ন শত শত বাড়িঘর, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে পড়েছে।

এ ছাড়াও নিলাম অনুয়ায়ী, কলাগাঁও ছড়া থেকে দেড় লাখ ফুট বালি উত্তোলনের কথা থাকলেও ৫ লাখ ফুট অধিক বালু উত্তোলন করেছে বলে জানান এলাকাবাসী। ৮০ পয়সা প্রতি ফুট হিসাবে বালি বিক্রির পরিবর্তে এখন ৫-৬ ফুট বালি বিক্রি করছে নিলাম গ্রহীতা।

তবে নিলাম গ্রহীতারা বলছে, তারা এই নদী লিজ এনেছে। এই ছড়া ছাড়াও অন্য ছড়ার একই অবস্থা বিরাজ করায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামবাসী মিলে কলাগাঁও ছড়া থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে লিখিতভাবে আবেদন করে জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। এর আগেও বালি উন্মুক্ত নিলাম বাতিল ও বালু উত্তোলন না করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে গ্রামবাসী গত বুধবার মানববন্ধন করে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান, তোতা মিয়া দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, নিলাম পাওয়া ব্যক্তি কুদ্দুছ মিয়া কলাগাঁও ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করায় ছড়ার দুই পাড়ের মসজিদ, কয়েক শতাধিক ঘর-বাড়ি, স্থাপনা ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এখানে বসবাসকারী লোকজন নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও এখান থেকে ভেসে আসা পাথর, কয়লা উত্তোলন করছে।

শর্ত অনুযায়ী, দেড় লাখ ফুট বালি উত্তোলনের কথা থাকলেও ৫ লাখ ফুটের বেশি বালি উত্তোলন করেছে। তাই বালি উন্মুক্ত নিলাম বাতিল ও উত্তোলন বন্ধের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছি বিভিন্ন দপ্তরে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। জনগুরুপূর্ণ এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বালি উন্মুক্ত নিলাম বাতিল ও উত্তোলন বন্ধের সিদ্ধান্ত না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানান গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ।

এ বিষয়ে নিলাম গ্রহীতা আবদুল কুদ্দুস জানান, ‘আমি বালি উত্তোলন করতে পারিনি লোকজন বাধা দেয় এজন্য।’

স্থানীয় এলাকাবাসীর জানিয়েছেন নিলাম দেওয়ার পরদিন থেকে বন্যায় বালি উত্তোলন করেছেন এবং বিক্রি করেছেন।৫ লাখ ঘনফুটের উপরে এমন প্রশ্নে আবদুল কুদ্দুস জানান, বন্যার কারণে বালি উত্তোলন করতে পারিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির বলেন, কলাগাঁও গ্রামের মানুষজন আমাকে জানিয়েছে একটি লিখিত আবেদন ও দিয়েছে সরজমিনে পরিদর্শন করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, উপজেলার কলাগাঁও গ্রামবাসী আমাকে লিখিতভাবে কলাগাঁও ছড়া থেকে বালি উত্তোলনের কারণে তাদের বসতবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। তাদের এই লিখিত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না