,

ফুলবাড়ীর রেবেকার চোখে আজও জল ‘

news-image

রানা প্লাজার কথা সবাই ভুলে গেছেন’
হয়তো কিছু টাকা পেয়েছি, কেউ একটা বাড়ি করে দিয়েছেন। কিন্তু কেউ কি আমার পা দুটো এনে দিতে পারবেন? যা দিয়ে আমি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বেড়াব। আমার স্বামী, সন্তানদের জরুরি প্রয়োজনে তাদের কাছে যেতে পারব। আট-নয় বছর পেরিয়ে গেল, সবাই রানা প্লাজা দুর্ঘটনার কথা ভুলে গেছেন। কিন্তু আমি ভুলতে পারি না। প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে সেই ভয়াল স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর রেবেকা খাতুন।

পঙ্গু রেবেকা আজও সেই ভয়াল দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছেন। রানা প্লাজার ঘটনায় হারানো দুপায়ে জরুরি অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন ছিল; কিন্তু করাতে পারেননি।

শনিবার কথা হয় ফুলবাড়ীর আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাই চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের স্ত্রী পঙ্গত্ব বরণকারী রেবেকা খাতুন এবং একই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ কাজিহাল ডাঙ্গা গ্রামের গুলশান আক্তার শাবানার পরিবারের সঙ্গে।

রেবেকা বলেন, দুর্ঘটনায় অচেতন হয়ে তিন দিন আটকা পড়ে ছিলাম ওই ভবনে। উদ্ধারকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারি আমি হাসপাতালে। আরও পরে জানতে পারি শরীরে অপরিহার্য দুটি পা নেই আমার। এরই মধ্যে দুপায়ে আটবার অপারেশন কারা হয়েছে। দীর্ঘ ১ বছর ঢাকাস্থ পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কর্মহীন হয়ে গ্রামে ফিরে আসি।

এদিকে এরই মধ্যে তার কোলজুড়ে আসে প্রথম সন্তান ছিদরাতুন মুনতাহা (৭) এবং মাদানী আন নুর (৩)। পঙ্গুত্বের কারণে ইচ্ছে করলেও অন্য মায়েদের মতো নিজের সন্তানদের করতে পারে না আদর যত্ন। স্বামীর জরুরি প্রয়োজনেও কোনো কিছুই করতে পারেন না।

একটি বেসরকারি সংস্থা তার দুটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিন্তু ওই পা দিয়ে সমান জায়গা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। কিংবা কোথাও গেলেও পা লাগিয়ে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন। স্বামী ছাড়া তেমন চলাফেরা বা কোনো কাজ করতে পারেন না। গতবছর একটি বেসরকারি সংস্থা একটি বাড়ি করে দিয়েছেন কিন্তু সেখানেও থাকতে পারেন না কারণ আশপাশে তেমন বাড়ি নেই।

এদিকে উপজেলার কাজিহাল ইউনয়নের ডাঙ্গা গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী গুলশান আক্তার শাবানার স্বামী আতাউর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতোই শাবানা ওইদিন রানা প্লাজায় কাজ করতে যায়। ঘটনার পর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজ তালিকায় শাবানার নাম ছিল। এর সূত্র ধরে সে সময় ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি, আর কিছুই না। কিন্তু আজও তার কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না