,

চুয়াডাঙ্গায় করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসার তিন কারণ

news-image

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশেই চলেছ টিকাদান সংক্রান্ত কার্যক্রম। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে।
চুয়াডাঙ্গার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশেই চলেছ টিকাদান সংক্রান্ত কার্যক্রম। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে। ছবি: শাহ আলম
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ৪১ দিনের বিধিনিষেধ ও সর্বাত্মক লকডাউন চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং করোনায় মৃত্যু, শনাক্ত ও শনাক্তের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বেড়েছে রোগীদের চাপ। প্রতিদিন সেখানে করোনায় ও করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগী মারা যাচ্ছেন।

মূলত তিনটি কারণে বিধিনিষেধ ও লকডাউনের সুফল মিলছে না বলে উল্লেখ করেছেন কোভিড চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ–সংক্রান্ত জেলা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা। সেগুলো হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা; ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পথে অবৈধ চলাচল এবং করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে একই সঙ্গে কোভিড ও নন–কোভিড রোগীদের চিকিৎসা, নমুনা পরীক্ষা, করোনা টিকাদান কেন্দ্র ও অন্যান্য টিকাদান কার্যক্রম।

জেলা সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে টিকাদান কেন্দ্রটি হাসপাতালের পুরাতন ভবনে সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি যত দিন পুরোপুরি নিশ্চিত করা না যাবে, তত দিনে পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাবে না।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে থেকে চলতি বছরের ১ জুন পর্যন্ত ১৪ মাসে করোনায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। লকডাউন ও বিধিনিষেধ চলাকালে জেলায় ৪০ দিনেই মারা গেছেন ৭২ জন।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে ভারত সীমান্তবর্তী সাতটি গ্রামে ২ জুন লকডাউন ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয়ভাবে বিধিনিষেধ কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ৬ জুন পাশের কুড়ুলগাছি ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের আরও নয়টি গ্রামকে বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ১৫ জুন পুরো দামুড়হুদা উপজেলায় লকডাউন ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় অন্যান্য উপজেলা। ২০ জুন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়ন, ২৩ জুন জীবননগর উপজেলায় এবং ২৮ জুন সকাল ছয়টা থেকে ১ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত জেলাজুড়ে ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ জারি করা হয়। সর্বশেষ ১ জুলাই সকাল থেকে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন।

বাংলাদেশে মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি মার্টিন হীরক চৌধুরী বলেন, যদি মানুষকে একটানা ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন দিয়ে ঘরে রাখা সম্ভব হয়, তাহলে সুফল অবশ্যই পাওয়া যাবে। চিকিৎসা পেশায় দীর্ঘ ৪২ বছরের অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, জুন মাসে দফায় দফায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন ও বিধিনিষেধ না দিয়ে পুরো জেলাকে লকডাউনের আওতায় আনতে পারলে চিত্র অন্য রকম হতে পারত।

জেলা প্রশাসক মো.নজরুল ইসলাম সরকার জানান, অনেকেই আইন জানার পরও তা ভাঙাতে গর্বের বলে মনে করেন। লকডাউন বাস্তবায়ন কেবল প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কাজ, এই ধারণা যত দিন মানুষের মন থেকে না যাবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হবে, তত দিনে পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হবে না।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রথম ১৪ মাসে জেলায় ৯ হাজার ৮২৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৯৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের গড় হার ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সর্বশেষ ৪০ দিনে ৬ হাজার ৯৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ৬৭৮ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের গড় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। ১১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬ হাজার ৭৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ হাজার ৬৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬০৮ জন। মারা গেছেন ১৪০ জন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার জরুরি: রাষ্ট্রপতি

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ২১ সেপ্টেম্বর

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় ৭ এমপির মধ্যাহ্নভোজ

বিদেশে সম্পদ মিললে ১০ শতাংশ চাইলেন আসিফ

পাথরবোঝাই বগি লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ

রামপালে এক ইউনিট বন্ধ, কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

গার্মেন্টসে শতভাগ দেশি জনবল সম্ভব: মাহ্দী আমিন

মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ জন আটক

গুলশানের মিছিলে গ্রেপ্তার ৯ জন কারাগারে

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৬১