,

ভরতখালি স্টেশন বন্ধ : নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের একশ কোটি টাকার সম্পদ

news-image

রংপুর ব্যুরো : এক সময় রেল স্টেশনটি চালু ছিলো। উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষের ট্রেনে রাজধানীতে যাতায়াতের একামাত্র পথ হওয়ার সুবাদে যাত্রীর পদভারে মুখরিত ছিলো ভরতখালী স্টেশনটি। ট্রেনের ঝমঝমানি শব্দ ছিলো দিনের বেশিরভাগ সময়েই। সারাদিন কর্মব্যস্ত ছিলো এ এলাকার মানুষ। রেল স্টেশনকে ঘিরেই জীবিকার চাকা ঘুরতো তাদের। ট্রেন স্টেশনে আসলেই নানা খাবারের পশরা সহ বিভিন্ন জিনিস ফেরি করে বিক্রি করতো এখানকার মানুষ। রেল স্টেশনকে ঘিরেই এখানকার মানুষ ছিলো কর্মমুখি। এটি ছিলো গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র।

কিন্তু এখন চিত্র একেবারে উল্টো। তিস্তামুখ রেলওয়ে ফেরিঘাটটি বন্ধ হওয়ায় রেলওয়ে স্টেশনটিও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে ওই অঞ্চলের যাত্রী সহ হাজারো কর্মজীবী মানুষ যেমন বেকার রয়েছে, অপরদিকে রেলওয়ের প্রায় এক’শ কোটি টাকার সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে পরে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে রেল মেরিন বিভাগ প্রতিষ্ঠা হয়। রেলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে থাকে যমুনা নদীর উপর দিয়ে রেলযাত্রী ও পন্যবাহী ওয়াগন পারাপার। তৎকালীন তিস্তামুখঘাট, বাহাদুরাবাদঘাট, জগন্নাথগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ ঘাটের মধ্যে যাত্রী পারাপার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মেরিন বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। লর্ড বারিংটন নামক এক ইংরেজ কর্মকর্তা মেরিন বিভাগের প্রথম সুপারিনটেডেন্ট নিযুক্ত হন। ওই ইংরেজ কর্মকর্তার দক্ষ পরিচালনায় রেলওয়ের মেরিন বিভাগের সার্বিক সমৃদ্ধিসহ যাত্রী ও ওয়াগান পারাপার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নতিও ঘটে। কয়লার ইঞ্চিন চালিত স্টিমার ‘‘দরবার’’ ও প্রিন্সেস মেরী’’ সহ কয়েকটি জলযান দিয়ে যমুনায় যাত্রী ও ওয়াগন পারাপার শুরু হয়। পরে বিশ শতকের দিকে আধুনিকায়ন ঘটিয়ে কয়লার ইঞ্জিন চালিত স্টিমারের পরিবর্তে যমুনায় নামানো হয় ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী স্টিমার ও ওয়াগনবাহী টাগ। ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী দু‘টি ওয়াগনবাহী টাগগুলোর নাম দেওয়া হয় বিভিন্ন মোঘল বাদশা ও বীর যোদ্ধাদের নামে। বাহাদুর শাহ্, মীর জুমলা, ঈসা খাঁ, তিতুমীর এবং বৈরাম খাঁ নামের টাগগুলো মেরিন বিভাগকে আরো সমৃদ্ধি করে তোলে।

৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় তিস্তামুখ ঘাটটি বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানান্তরিত বালাসীঘাট চালুর পরপরই নির্মিত হয় বঙ্গবন্ধু সেতু। তখন থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এ রুটটি। তিস্তামুখ ফেরিঘাট বন্ধ ঘোষণা করায় তার সাথে এরুটের ভরতখালি রেলস্টেশনটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করে যাত্রী পারাপার ব্যবস্থার চূড়ান্ত ইতিটানা হলে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামীর ও যমুনার পূর্বপাড়ের জামালপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুরের বিশাল জনগোষ্ঠী রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তিস্তামুখ ফেরিঘাট ও ভরতখালি স্টেশনকে কেন্দ্র করে উপার্জনশীল কুলি শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ী, ফেরিওয়ালা ও কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। স্টেশন বন্ধ থাকায় জমজমাট বাজারের ব্যবসা আর ভালো চলেনা বলে জানালেন, ব্যবসায়ী আবু সাদাত সরকার।

সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভরতখালি স্টেশনের রেলপাত, স্টেশন ভবন, সিগনাল, বিভিন্ন স্থাপনা সহ রেলের অসংখ্য সরকারি সম্পদ পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও নেই কোনো ব্যবস্থা। এদিকে স্টেশনটি আবারও চালুর জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকার যাত্রীরা।

স্টেশন এ্লাকার পাশের্^র সাকোয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, স্টেশনটি চালু হলে একদিকে সরকারের সম্পদ গুলো রক্ষা পাবে, অপরদিকে ট্রেন চলাচল করলে যাত্রী সহ সাঘাটা-ভরতখালীর জনগোষ্ঠির উপকার হবে।
বোনারপাড়া রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন উপসহকারি প্রকৌশলী (পথ) আকবর হোসেন জানান, এলাকার লোকজন অবশ্য দাবি জানিয়ে আসছে। আসলে এ বিষয়টি মিনিস্ট্রি পর্যায়ের।

এ জাতীয় আরও খবর

দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: জামায়াত আমির

আসিফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, সন্দেহ সিএনজি থেকে

বিক্ষোভ মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করলো ফ্রান্স

শ্রদ্ধার কারণে গায়কিতে বদল আনেন শ্রেয়া

গাজীপুরে কারখানার গোডাউনে আগুন, সাড়ে পরে নিয়ন্ত্রণে

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

১০০ টাকার নিচে মিলছে না যেসব সবজি

রাষ্ট্রদূতকে ফি‌রিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত সিদ্ধান্ত : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মহা-রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে মোংলা বন্দর

নবীনগরে ১৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ

নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবকে কেন্দ্রীয় যুবদলের কারণ দর্শানোর নোটিশ