,

মধ্যরাতে খনি বন্ধ, কয়লা চুরি : অভিযুক্ত হতে পারেন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা

news-image

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়লা চুরির ঘটনায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা অভিযুক্ত হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জড়িত হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত হতে পারেন এর তদারকির কাজে নিয়োজিত ‘পেট্রোবাংলা’র অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রি নসরুল হামিদও কয়লা সরবরাহে ‘পেট্রোবাংলা’র তদারকিতে ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন।

রোববার নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন এর তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু বর্তমান নয় অতীতেও যারা খনিতে দায়িত্বে ছিলেন, তারাও তদন্তের আওতায় আসবেন। আশা করছি এ সংকট ১মাসের মধ্যে সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বড়পুকুরিয়া নিয়ে বৈঠকের পর তাৎক্ষণিকভাবে এই সমস্যার সমাধান কি হবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও এই ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন তিনি। একই ঘটনায় বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দীন আহমেদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ১৬হাজার টন কয়লা খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ এনে ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জানা যায়, দুদকের উপ-পরিচালক শামছুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ ও তাইজুল ইসলাম। এব্যাপারে দুদকের পরিচালক (গণসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল জালিয়াতি ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দীন আহমেদ ও সংশ্লিষ্টরা কয়লা খনির এক লাখ ১৬ হাজার টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে আনুমানিক ২০০কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই ভিত্তিতে সোমবার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুদক।

এদিকে বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ এটি পুনরায় চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও খনির কোল ইয়ার্ড থেকে প্রায় ১লাখ ৪২হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে ‘সিস্টেম লস’ হিসেবে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, এক-দুই বছরে এই বিপুল পরিমাণ কয়লা সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। খনির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকেই এরসঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা মজুদের পরিমাণ কাগজে-কলমে রয়েছে ১লাখ ৪০ হাজার টন। এর আগে ২০০৫ সালের কয়লা মজুদ এবং বিক্রির হিসাব পর্যালোচনা করে এই হিসাব দাঁড় করিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। এই হিসাবই পিডিবিকে মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। কিন্তু খনি থেকে উত্তোলনের পর মজুদাগারের সব কয়লা জড়ো করে গেছে, সেখানে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টনের মতো কয়লা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৫ সাল থেকে উত্তোলন, বিক্রি ও মজুদ হিসাব করে কাগজে কলমে ১ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা দেখানো হয়েছে। অথচ এখন এই মজুদের পরিমাণ ১০ হাজার টন। বাকি ১লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ায় কয়লা সংকটে গত রবিবার (২২জুলাই) রাত ১০টা ২০মিনিটে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর