,

মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট

news-image

আমাদের জীবনে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি আসে, মনে হয় এই শেষ। জীবন এখানেই থেমে যাবে।চারদিক থেকে আর্থিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক নানা সমস্যা একসাথে ধেয়ে আসে। বিপদের পর বিপদের পাহাড় হুড়মুড় করে মাথার উপর ভেঙে পড়তে থাকে।

কোথাও মুক্তির আলো দেখা যায় না। সর্বশক্তি ব্যয় করেও একবিন্দু নড়াচড়া করা সম্ভব হয় না। নবীজি সা. এমন অসহায় পরিস্থিতিতে আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহ তা’আলার উপর তাওয়াক্কুল ঘোষণা করার শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা সর্বশক্তিমান। তিনিই একমাত্র আমার চলমান সংকট দূরে করে দিতে পারেন। আমার শত্রুকে দলিত-মথিত করে দিতে পারেন। আমাকে ও সমস্ত মুমিন-মুসলমানকে শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করতে পারেন।

তাওয়াক্কুল ঘোষণা করা নবীজির সুন্নত। শুধু তাই নয়, পূর্বেকার সমস্ত নবীরও সুন্নত। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল’।অর্থাৎ আমাদের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি কতইনা উত্তম তত্তাবধায়ক। এই বাক্যটা ইবরাহীম আ. বলেছিলেন যখন তাকে আগুনে ফেলে দেয়া হয়েছিল। মুহাম্মাদ সা. বলেছিলেন যখন লোকেরা (মক্কার কাফির) বলেছিল, তারা তোমাদের (সাথে যুদ্ধ করার) জন্যে (পুনরায়) সেনা সংগ্রহ করেছে, সুতরাং তাদেরকে ভয় কর। তখন এই সংবাদ তাদের ঈমানের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তারা বলে ওঠে-‘আমাদের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’। (আলে ইমরান ১৭৩, বুখারী ৪৫৬৩)

সত্যিকারের ঈমান হচ্ছে, আমার যাবতীয় বিপদাপদে একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই মুক্তিদাতা- এই বিশ্বাস পোষণ করা। আমার সবকিছুর জন্যে আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট। ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল’ বাক্যটির মধ্যে এসবই ফুটে ওঠে।

ইবরাহীম আ.-কে আগুনে ফেলে দেয়া হয়েছে। দেশের রাজা, সৈন্য-সামন্ত তার বিরুদ্ধে। তিনি মূর্তি ভেঙেছেন, এটাকে সরকার অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। শাস্তি ঠিক করেছে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা। বিশাল অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে তাকে নিক্ষেপ করা হল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই’। ইবরাহীম আ. বাক্যটা পড়লেন। আল্লাহ তা’আলা আগুনকে শীতল ও আরামদায়ক করে দিলেন।

ওহুদ যুদ্ধের সময় মুসলমানরা শেষের দিকে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। মুশরিকটা ময়দান ত্যাগ করে মক্কার দিকে রওয়ানা দিল। কেউ একজন রটিয়ে দিল, তারা আবার ফিরে আসছে। এমন সংবাদ শোনার পর ভয় পাওয়ার পরিবর্তে মুমিনগনের ঈমান আরও বৃদ্ধি পেল। নবীজির সাথে সাথে তারাও বলে উঠল- (حَسْبُنَا اللهُ ونِعْم الوَكِيْلُ)। আল্লাহ তা’আলা মুশরিকদের থামিয়ে দিলেন। তারা এলো না।

অত্যন্ত শক্তিশালী আর কার্যকর একটি দু’আ শিখিয়ে দিয়েছেন নবীজি সা.। আমরা সব ধরনের বিপদে, চেষ্টার পাশাপাশি দু’আটা পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারি। এই দু’আ সাধারণ কোনও দু’আ নয়। কারণঃ
১. এই দু’আ নবীগণ পড়েছেন।
২. এই দু’আ অতীতের মুমিন বান্দাগণ পড়েছেন।
৩. এই দু’আ সাহাবায়ে কেরাম পড়েছেন।
৪.এই দু’আ শুধু হাদীসেই নয়, সরাসরি কুরআন কারীমেও উল্লেখিত আছে।
কঠিন বিপদ থেকে বাঁচতে, জালেমের জুলুম থেকে বাঁচতে, কিয়ামতের ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে এই দু’আটি পড়বো। ইনশাআল্লাহ।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর