,

নফসের দাসত্ব ধ্বংসের চাবিকাঠি

news-image

নফস প্রধানত মন্দ কর্মপ্রবণ। প্রায় সকল মানুষের নফস মন্দ কাজে কম-বেশি তৃপ্তি পায়। একমাত্র আল্লাহ তায়ালার খাস রহমত ব্যতিত নফসের এ মন্দ প্রবণতা থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে হজরত ইউসুফ (আ) এর ভাষায় এ বিষয়টি পরিস্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন। ‘আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের নফস মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা ইউসুফ: ৫৩)

আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষ সাধারণত নফসের গোলাম। নফস যা চায় তাই করে। নফসের কামনা বাসনা পূরণ করাই তাদের জীবনের একমাত্র সাধনা। এজন্য চেষ্টার কোন কমতি দেখা যায় না। বরং এ বিষয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। নফসের গোলামী পথভ্রষ্ট হওয়ার একটি প্রধান উপায়। যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের হুকুমের খেলাপ নিজেদের নফসের খেয়াল খুশিমত জীবন যাপন করে তাদের চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট কেউ হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের নফসের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।’ (সূরা আল-কাসাস: ৫০)

আমাদের সমাজের অনেক মানুষ নফসকেই তাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে। গোলাম যেমন প্রভুর প্রতিটি আদেশ নিষেধ যথাসাধ্য পালন করে ঠিক তেমনিভাবে অনেকে নফসকে তাদের প্রভু মেনে নিয়ে তার গোলামী করে। এসব লোক চোখ থেকেও হকপথ দেখার ক্ষেত্রে অন্ধ, কান থেকেও হক কথা শ্রবণ করার ক্ষেত্রে বধির, অন্তর থেকেও হক বোঝার ক্ষেত্রে নির্বোধ। আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পর্কে বলেন, ‘আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার নফসের খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না? (সুরা জাসিয়া: ২৩)

জান্নাতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধক হচ্ছে নফসের গোলামি। নফসের গোলামি করতে গিয়ে মানুষ আল্লাহ তায়ালার বিধি নিষেধের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে। তাই জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইলে আল্লাহ তায়ালার ভয়ে নফসের অবৈধ কামনা বাসনা হতে বেঁচে থাকা জরুরি। আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দ-ায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং নফসের খেয়াল-খুশি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।’ (সুরা নাযিয়াত: ৪০-৪১)

যারা অবৈধ কামনা-বাসনা পূরণ করা থেকে নিজেদের নফসকে সম্পূর্ণরূপে হেফাজত করতে সক্ষম হয় পবিত্র কোরআনে তাদের নফসকে নফসে মুতমাঈন্নাহ বা প্রশান্ত আত্মা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে অতি সম্মীনজনকভাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের মৃত্যুর সময় ঘোষণা করবেন ‘হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায়। আর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (সূরা ফজর: ২৭-৩০)

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর