,

বিয়ের আসরেই নষ্ট করে দেয়া হলো ৪০০ জনের খাবার!

news-image

বগুড়ায় বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনগণের তোপের মুখে পড়েন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিয়ে বাড়ির ৪শ’ জন লোকের খাবার মাটিতে ফেলে দিয়ে তোপের মুখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২৯ জুন) বিকাল বেলা বগুড়া শহরের নারুলী খন্দকার পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।

বাল্যবিবাহের এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনজনকে আটক করে। অবশ্য একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘটনাস্থলেই ছেড়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে আটককৃত অপর দু’জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়।

জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার হলিদাবগা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রকির সঙ্গে নারুলী খন্দকার পাড়ার দরিদ্র অটোটেম্পু চালক বাবু মিয়া তার ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা রজনী খাতুনের বিয়ে ঠিক করেন।

শুক্রবার (২৯ জুন) তাদের বিয়ের দিন নির্ধারণ করে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ওইদিন দুপুরের পর থেকে সেখানে লোকজন খাওয়া শুরু হয়।

ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিটের পেয়ে বাবু মিয়া ও তার স্ত্রী ফাইমা মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান।

এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ আয়োজন করার অভিযোগে বাবু মিয়ার মামা সেকেন্দার আলী (৬৫), খালা সুইটি বেগম এবং বাবু মিয়ার ভাই রকিকে আটক করে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা পুলিশ বিয়ে বাড়িতে রান্না করা ৪ শ’ জনের খাবার মাটিতে ফেলে দেয় এবং চেয়ার টেবিল উল্টে ফেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে আটক অবস্থায় সেকেন্দার আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ ঘটনার এক পর্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিক্ষুব্ধ জনগণের তোপের মুখে পড়ে ও অসুস্থ সেকেন্দোর আলীকে ছেড়ে দেয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে আনে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আটককৃত দু’জনকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা প্রদানের দায়ে আটক সুইটি বেগমকে ১ মাস এবং রকিকে ২ মাস কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সদর থানার এসআই জিলালুর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখে মেয়ের আত্মীয়-স্বজন উত্তেজিত হন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন। এ কারণেই আদালতের বিচারক খাবার ফেলে দিয়েছেন।

কিন্তু এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিয়ে বাড়িতে খাবার কে নষ্ট করেছে তা দেখেননি তিনি। তবে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গেলে আদালতের কাজে বাধা দিলে দু’জনকে আটক করে সাজা দেয়া হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর